চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বায়েছ

মিললো না রাষ্ট্রীয় সালাম

পূর্বদেশ ডেস্ক

16

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও গার্ড অব অনার (রাষ্ট্রীয় সালাম) ছাড়াই চলে গেলেন চন্দনাইশের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বায়েছ ওরফে আবুল বশর (৭০)। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের উত্তর হাশিমপুর এলাকার ভাইখলিফা পাড়ার বাসিন্দা এই মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে না হারলেও দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, এক পুত্র রেখে গেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলে তিনি হাবিলদার আবু মো. ইসলাম গ্রুপের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। অনেক অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বেও অনেক অপারেশন সংঘটিত হয়। তিনি ধোপাছড়ি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানকে এক অপারেশনে গুলি করে হত্যা করেন। আরেক অপারেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভেট্টা ডাকাতকে ফ্লাইট সার্জেন্ট মহিউল আলমের নির্দেশে তিনি গুলি করে হত্যা করে শঙ্খ নদীতে ফেলে দেন। তিনি সাতকানিয়া কলেজ অপারেশনকালে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এছাড়া তিনি রাজাকারদের হাতে বন্দী হয়ে হাশিমপুর ইউনিয়ন কাউন্সিল কার্যালয়ে নির্যাতনের শিকার হন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে তিনি যে কাজগুলো করেন, তা একটি গ্রন্থ হওয়ার দাবি রাখে। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় অনেকেই অবাক হন তাঁকে গার্ড অব অনার না দেয়ায়। আসলে তারা জানতেন না এই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি তালিকায় নেই। কিছুদিন আগে চন্দনাইশ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে তিনি পুত্র-কন্যাদের আগ্রহে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই কাজে ছিলেন স্থানীয় এমপি’র প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস ইসলাম খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার জাফর আলী হিরু, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ, তপন নামে একজন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রমুখ। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তিনি বাদ পড়েন, এটা রহস্যজনক।
তারা জানান, তিনি পুত্র-কন্যাদের বলেছিলেন, তোমাদের কারণে আবেদন করলাম। আমি তো দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। কিছু পাওয়ার জন্য নয়। এই আবেদন করে আজ আমি অপমানিত হলাম।