১৫ হাজার ওয়ারেন্ট তামিল

চলতি সপ্তাহে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু

রতন কান্তি দেবাশীষ

18

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫ হাজার ওয়ারেন্ট তামিলে অভিযানে নামছে পুলিশ। চলতি সপ্তাহ থেকেই এ অভিযান শুরু হয়ে তা নির্বাচন পর্যন্ত চলবে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে জেলা ও নগরীতে এ অভিযান চালানো হবে। তবে রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেপ্তার না করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগেই ওয়ারেন্টি আসামি, সন্ত্রাসী-অপরাধী গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালায়। এসব অপরাধীরা যাতে নির্বাচনে কোনোধরনের প্রভাব বিস্তার করতে বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে না পারে সেজন্যই নির্দেশনা মোতাবেক অভিযান চালানো হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সন্ত্রাসী-অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।
সিএমপি ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিএমপি ও জেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার ওয়ারেন্ট তামিলের অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে সিএমপিতে ৯ হাজার ও জেলায় রয়েছে ৬ হাজার। আদালতে মামলা করার পর কোনো কারণে আসামি কয়েক দফায় হাজিরা না দিলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। জারি করা ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছে দেয়া হয় আদালত থেকে।
ওই ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পুলিশের। এছাড়া থানায় মামলা করার পর সেটি আদালতে পাঠানো হয়। সেই মামলায়ও আসামি জামিন না নিলে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। কেউ জামিন নিয়ে হাজির না হলেও ওয়ারেন্ট জারি করে আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওয়ারেন্টিদের মধ্যে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মারামারি, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, ভাঙচুর, দাগি অপরাধী, খুনি, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং সাজাপ্রাপ্তও রয়েছে। বছরের পর বছর এসব ওয়ারেন্ট তামিলের অপেক্ষা রয়েছে। থানায় ওয়ারেন্ট গেলেও পুলিশ গুরুত্ব না দিয়ে তামিল করে না। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ারেন্টি আসামিদের সাথে পুলিশের গোপন সখ্যতার কারণে তামিলে গড়িমসি করে তারা।
জানা যায়, ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করতে বলা হয়েছে। দাগি অপরাধী, সন্ত্রাসীসহ সকল ওয়ারেন্টি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, ওয়ারেন্টি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান সারা বছরই চলে। প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে। ওয়ারেন্টি গ্রেপ্তারে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা আমরা পালন করছি। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।
সিএমপি ও জেলা সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রম জোরদার করতে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিএমপি’র ১৬ ও জেলার ১৬ থানাকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি সপ্তাহ থেকে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হবে।
অপরদিকে রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেপ্তার না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই না করে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলা রেকর্ড করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই না করে কাউকে গ্রেপ্তার ও মামলা রেকর্ড করা যাবে না। তবে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার ও কোনো দুর্ঘটনার মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা।