চবিতে র‌্যাগিংয়ে বাধা দেয়ায় সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

চবি প্রতিনিধি

27

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে র‌্যাগিংয়ে বাধা দেয়ায় মিনহাজুল ইসলাম তুহিন নামে এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বেলা দেড়টায় শহরগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার তুহিন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। অপরদিকে মারধরকারীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মাহমুদুল হাসান রুপক, একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আলী তানভীর, ইতিহাস বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের রাজিবুল আলম ও মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মাহিম হোসাইন। এদের মধ্যে রুপক চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। তার বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় একটি ডাকাতি মামলাও রয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। মারধরকারীরা সবাই চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আবু সাঈদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাঈদ নিজেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার বেলা দেড়টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে এক শিক্ষার্থী ব্যাগ রেখে খাবার খেতে যায়। এসময় তার ব্যাগ সরিয়ে দেয় মাহমুদুল হাসান রুপক। ওই শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে এসে সিটে বসতে চাইলে রুপকসহ কয়েকজন তাকে র‌্যাগ দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় সাংবাদিক তুহিন বাধা দিলে তাকে মারধর করে রুপকের নেতৃত্বাধীন একদল ছাত্রলীগ কর্মী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক তুহিন পূর্বদেশকে বলেন, ‘এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেয়ার সময় বাধা দেয়ায় রুপক একদল ছাত্রলীগ কর্মী নিয়ে আমাকে মারধর করে। আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও ত্রাণ পাইনি। পরে কয়েকজন বন্ধু আমাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।’
মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান রুপক পূর্বদেশকে বলেন, ‘এটা একটা অনাকাঙ্কিত ঘটনা। আমি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাইনা।’
এদিকে সংগঠনের সদস্যকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে চবি সাংবাদিক সমিতি। অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যারা শাটল ট্রেনে বিশৃঙ্খলা করেছে, সাংবাদিককে মারধর করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। সোমবার বিকালে এক জরুরি সভায় সমিতির সভাপতি সৈয়দ বাইজিদ ইমন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের হুমকি, মারধরসহ নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়ে চলছে। এটি মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।’ তাই এসব ঘটনা বন্ধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবিও জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।