চবিতে ছাত্রজোটের মিছিলে ছাত্রলীগের দুই দফা হামলা

চবি প্রতিনিধি

31

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ মিছিলে দুই দফা হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার দুপুরে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রজোট নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- ছাত্রফ্রন্টের আহŸায়ক (মার্কসবাদী) ফজলে রাব্বী, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমা, ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি মির্জা ফখরুল, প্রত্যয় নাফাক, তানজীম তুষার, কনক দাশ, ফারহানা ইয়াসমিন, তুইসাচিং মারমা, আইরিন সুলতানা, ঋজু লক্ষী, আহমেদ কায়সার, সায়মা আক্তার নিশু, জান্নাতুল মাওয়া মুমু। আহতরা সবাই প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মী। এদের মধ্যে রাব্বী, তুষার, কনক, মির্জা ফখরুলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. টিপু সুলতান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগ নেতা জিমেল, জুয়েল, রিশাতসহ ৩০-৪০ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালায়। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিলকারীদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে। এ ঘটনায় ফজলে রাব্বী, ঋজু লক্ষীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিকাল পৌনে তিনটায় আবার চাকসু ভবনের সামনে থেকে মিছিল বের করে ছাত্রজোট। মিছিলটি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সামনে এলে ফের লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রফ্রন্টের আহবায়ক ফজলে রাব্বীসহ মিছিলে থাকা নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। মিছিলে থাকা নারী কর্মীদের উপরও হামলা চালায় তারা। ফজলে রাব্বীকে মারতে মারতে প্রক্টর অফিসের সামনে নিয়ে গেলে সেখানে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সময় আবারও চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী ও ছাত্রলীগ বিরোধী ¯েøাগান দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হাসান কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশের একটি স্বাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার আছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সময় সন্ত্রাসীরা স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করে। আমরা এ বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছি।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘কর্মসূচি বা হামলার বিষয়ে আমাদের কোন পক্ষই জানায়নি। মারধরের ঘটনা যারাই ঘটাক, এটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার রেশ এই ক্যাম্পাসে আসার কোন যুক্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’