চবিতে অচলাবস্থা

চবি প্রতিনিধি

23

অজানা কারণে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেন। এর কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিপরীতমুখী তথ্য পাওয়া যায়।
গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নগর থেকে ছেড়ে আসা সকাল সাড়ে ৭টা ও ৮টার শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছার পর প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চলাচল বন্ধ থাকে। বেলা দেড়াটার দিকে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসগুলোও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল শুরু করে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীশূন্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন পূর্বদেশকে বলেন, সকালে শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে। ষোলশহরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে। হয়তো জামায়াত-শিবিরের আতঙ্কে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে শাটল ট্রেন বন্ধ রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, যান্ত্রিক ত্রæটির কারণেই মূলত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বন্ধ রাখবে কেন?
সার্বিক বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ মুন্না বলেন, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল একেবারে কম। বেশিরভাগ বিভাগের ক্লাস অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। নগরে বসবাসরত শিক্ষকদের আনার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সকাল সাড়ে ৫টা থেকে বাস চলাচল শুরু কথা থাকলেও তা ছেড়ে যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উপস্থিতি ছিল একেবারে কম।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ উন নবী। তিনি বলেন, মূলত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বাসগুলোর নিরাপত্তার কারণে বাস চলাচল বিলম্বে শুরু হয়। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলে সকাল সাড়ে ১০টায় পরিবহন দপ্তর থেকে শিক্ষকদের আনার উদ্দেশ্যে নগর অভিমুখে বাস ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে পারে- এমন খবরে পূর্বঘোষণা দিয়ে গতকাল সকাল থেকেই মাঠে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মীরা। নগরের ষোলশহর স্টেশনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় মিছিল করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
মিছিলে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনছুর আলমসহ নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেখা যায়।
অবস্থানের বিষয়ে ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, আমাদের নিজস্ব তথ্য, গোয়েন্দাদের তথ্য, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে কোটা আন্দোলনকারীরা নাশকতা চালাতে পারে। তারা পুরো শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে দিবে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জানমাল রক্ষায় আমরা মাঠে ছিলাম।