অবৈধভাবে মাটি বিক্রি ১ লক্ষ টাকা

চন্দনাইশ সাতবাড়ীয়া আলিদ্যা পুকুরের মাটি হরিলুট

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

27

উপজেলার সাতবাড়ীয়া আলিদ্যা পুকুর সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। একটি মহল সংস্কারের টাকা ব্যবহার করার পরও ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তির নিকট অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, সাতবাড়ীয়া খাস আলিদ্যা পুকুর (জলাশয়) সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। নিয়মানুযায়ী পুকুর থেকে ৬-৭ ফুট মাটি কাটার সুযোগ রয়েছে। মাটি কাটার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে গত ২১ এপ্রিল বহরম পাড়ার জনৈক দিদার ২টি স্কেলেবেটর দিয়ে ৫/৬টি ডাম্পার করে অবৈধভাবে মাটি কাটা শুরু করে। খবর পেয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার কামাল উদ্দিন চৌধুরী বাধা প্রদান করলে তারা পালিয়ে যায়। পরদিন পুনরায় মাটি কাটা শুরু করলে বিষয়টি নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, জলাশয় সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সে সাথে একটি নীতিমালা দেয়া হয়েছে, এর বাহিরে গিয়ে মাটি বিক্রি করা বা অতিরিক্ত মাটি কাটার সুযোগ নেই। তাছাড়া যারা মাটি কাটছে, তাদের কোন মাটি কাটার অনুমতি ও বৈধ কাগজপত্র নেই। তাই মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্কেলেবেটর দিয়ে মাটি কাটার ব্যাপারে দিদার বলেছেন, তাকে ইউএনও অফিসের মিজান, উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সরোয়ারের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে মাটি কাটার জন্য তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে দেন। লিখিত অনুমতি চাইলে সরোয়ার বলেছেন, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইউএনও থাকবেন, কেউ বাধা দিতে পারবে না।
পুলিশ বা অন্য কোন বাধা আসলে সে মেটাবে। সে হিসেবে দিদার মাটি কাটা শুরু করে প্রথম দিন ১শ গাড়ি, দ্বিতীয় দিন ৫০ গাড়ি মাটি বহন করার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। মাটি কাটা বন্ধ হওয়ার পর সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে আজ-কালের মধ্যে সাবেক ইউএনও আসলে টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ সরোয়ার আহসান এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ছাত্র জীবনে কর্ণেল অলির অনুসারী হিসেবে প্রথমে উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, পরবর্তীতে এলডিপি’র অঙ্গ-সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রদল পৌরসভার সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী ২য় বারের মত কর্ণেল অলির দল এলডিপি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১২ সালের প্রথম দিকে সরকারিভাবে চেয়ারম্যান নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিএ হিসেবে তার দলীয় লোক সরোয়ার আহসানকে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দিলে ও তার সিএ সরোয়ার তার আদর্শ ধরে রাখে।
অভিযোগ রয়েছে সে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাবেক ইউএনও লুৎফুর রহমানের কাছের লোক হয়ে যায়। সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলজিডি’র ফাইল স্বাক্ষরসহ সব রকম যোগাযোগ সরোয়ারই করত। এনিয়ে ঠিকাদারদের সাথে সরোয়ারের দর কষাকষি নিয়ে কয়েক দফা বাড়াবাড়ির ঘটনা ও ঘটে। তাছাড়া উপজেলার সকল অনুষ্ঠানে নাস্তার প্যাকেট থেকে শুরু করে সব রকম ক্রয় বিক্রয় এককভাবে সরোয়ারই করেছিল। সে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউএনও অফিসে কাজে আসা শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে অশালীন আচরণ করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।