চন্দনাইশে সাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

2

চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম ধোপাছড়ি ছাপাছড়ি এলাকার বাসিন্দা আমজু মিয়া গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে তার ভাই আবুল হোসেন বাদি হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৭ দিন আমজু মিয়াকে খুঁজে না পাওয়ায় তার ছেলে আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে গতকাল ৯ অক্টোবর জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপহরণের মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। আদালত শুনানি শেষে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা হিসেবে অন্তভর্‚ক্ত করার আদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে পশ্চিম ধোপাছড়ির ছাপাছড়ি এলাকার আমজু মিয়া প্রকাশ আমজাদ হোসেনের সাথে সামাজিক বিরোধ ও আধিপত্য নিয়ে আসামিগণ তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আমজু মিয়ার ভাই আবুল হোসেন বাদি হয়ে চন্দনাইশ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে পুলিশ আমজু মিয়ার কোন তথ্য সংগ্রহ করতে না পারায় তার ছেলে আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে একই এলাকার মৃত নুর আহমদের ছেলে নুরুল আমিন প্রকাশ কালা আমিন (৫৬), মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম (৪৮), মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ চৌধুরী (৪২) নওশা মিয়ার ছেলে মোস্তাক আহমদ (৪০), মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩৩), আতাউল্লাহর ছেলে সাবেক মেম্বার মুজিবুল হক খোকা (৪৭) এর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল্লাহ কায়সার শুনানি শেষে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার আদেশ দিয়েছেন চন্দনাইশ থানা অফিসার ইনচার্জকে। অভিযোগের সংবাদ পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ধোপাছড়ি এলাকার মামলার আসামিরা।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমজু মিয়াসহ ৩ বন্ধু সকালে বড়শি দিয়ে শঙ্খনদীতে মাছ শিকারে যায়। মাছ শিকার করে আসার পথে আমজু মিয়া নিখোঁজ হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর আমজু মিয়াকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে থানায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়।
থানা অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্ত্তী বলেছেন, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নিখোঁজ ডায়েরিটি মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। ইতিমধ্যে ভিকটিমের ছেলে আদালতে দায়ের করা মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার আদেশ পেলে মামলাটি রুজু করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।