চন্দনাইশের স্বপ্ন নগর বিদ্যালয়ের ১৩ বছর পূর্তির মিলনমেলা

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

60

উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী চা বাগান তথা স্বপ্ন নগর এলাকায় ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্ননগর বিদ্যালয়ের ১৩ বছর পুর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা তথা স্কুল সম্মিলন’ ১৮ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্টিত হয়। শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন জাপানের অনারারী কনসালটেন্ট মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা রাইসুল ইসলাম বাহার, ডা. সুশান্ত বড়–য়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, আইনজীবী ও পরিচালনা পরিষদ সদস্য যথাক্রমে প্রকৌশলী নিলয় দাশ গুপ্ত, অনিকেত চৌধুরী, নাছিমা সিরাজী, প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমদ রকি, এড. আবিত, এড. বিষুময় চক্রবর্ত্তী, প্রধান শিক্ষক সুজা আল মামুন, শিক্ষক যথাক্রমে সোমেন ঘোষ, সাগরিকা দাশ, কাউসার বেগম, নাছিমা আকতার, শামীমা আরা, প্রমা দাশ, আইরিন সুলতানা, লিন্ডা লিমেজ গোমেজ, অভিভাবক সদস্য মধু, কার্তিক রায় প্রমুখ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালা উপভোগ করাকালে ডা. সুশান্ত পাল অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এই পাহাড়ী এলাকায় এ ধরনের পরিবেশে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন এক ঝাঁক যুবক। যে সময় মানুষ টাকার পিছনে ছুটছে, সে সময় তারা নিজের অর্থ দিয়ে এ এলাকার অবহেলিত জনগোষ্টির মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাদের শিক্ষা পদ্ধতি জীবনের দিক নির্দেশনা সমাজের পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠির মাঝে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মুক্তিযোদ্ধা রাইসুল হক বাহার বলেছেন, দূর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত উপেক্ষিত পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর আগামী প্রজন্মকে জীবনের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তারা দূঃসাহসিক কাজ করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছে। জাপানের অনারারী কনসালটেন্ট মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেছেন, তারা শিক্ষার অনেক কাজ করে গেছেন। তবে এ ধরনের দুঃসাহসিক কাজ এবং শতভাগ সফল হওয়া খুবই প্রশংসনীয়। তাদের এ কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস যোগাচ্ছেন যারা তাদেরকেও ধন্যবাদ জানায়। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে দরিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী চা বাগানের ভারতীয় শ্রমিকদের সন্তান যারা সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাদেরকে নিয়ে চলেছে নাচ, গান, কবিতা, কৌতুক, নাটকসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। তাদের প্রদর্শনি দেখে অভিভূত হয়েছেন শহর থেকে আসা মানুষগুলো। যারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন বড় বড় অনুষ্ঠানে গিয়ে নৈপূণ্যতা দেখে থাকেন। তারাই বলেছেন এ কেটে খাওয়া মানুষের ছেলে মেয়েরা তাদেরকে যেভাবে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আজকের দিনটি ছিল তাদের জন্য ঈদের মতো খুশির।