চতুর্থবারের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের শপথ

19

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ নিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। গত মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয় লাভের পর সোমবার অনুষ্ঠিত হয় শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিনের শপথকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন ছিল। এরইমধ্যে ১৯টি শহরে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুতিন ২০০০ সালে প্রথমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। টানা দুবারে আট বছর এই দায়িত্ব পালনের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। কারণ, রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকা সম্ভব না হওয়ায় তাকে এই বদল আনতে হয়েছে। ওই বছর দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার পুতিন প্রার্থী হন এবং জয়লাভ করেন। কখনও প্রধানমন্ত্রী আবার কখনও প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন তিনি। সোমবারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন তিনি। রুশ সংবিধান অনুযায়ী একজন রাজনীতিক ছয় বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই মেয়াদ ছিল চার বছর। ওই বছর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের শাসনামলে এই মেয়াদকাল চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়।
গত মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পুতিন। এখন পর্যন্ত এটাই তার সর্বোচ্চ ভালো নির্বাচনি ফলাফল। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নানা অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। অবশ্য আগের নির্বাচনগুলোতেও পুতিনের পক্ষে ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। পুতিনের শপথকে সামনে রেখে গত শনিবার মস্কোসহ বিভিন্ন শহরে পুতিন বিরোধীদের বিক্ষোভে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। মস্কো থেকে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। রাশিয়ার বিরোধীরা পুতিনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ করে থাকেন। তাদের ভাষায়, বিরোধীদের সংসদের বাইরে রাখতে পুতিন ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র’ চালু করেছেন।