চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রভাষক বদলি নিয়ে ‘তুঘলকি কান্ড’

ওয়াসিম আহমেদ

70

জরিনা মফজল সিটি কর্পোরেশন কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন মো. আব্দুল মান্নান। গত ১ জুলাই তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তাকেই বদলি করা হয়েছে পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে! গত মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনাধীন কলেজে প্রভাষকদের সমন্বয় সাধনের জন্য এক বদলির আদেশ দেয়া হয়। সে আদেশই চাকরি ছেড়ে দেয়া প্রভাষককে বদলি করা হয়েছে অন্য একটি কলেজে। সমন্বয়ের নামে এটি কেবলই তুঘলকি কান্ড বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো. মোশাররফ হোসেন পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক। তাকে বদলি করা হয়েছে ফতেয়াবাদ বহুমুখি সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে। তিনি থাকেন বাকলিয়ার মিয়াখান নগরের একটি ছোট্ট বাসায়। বেতন পান ১০ হাজার ৫৬০ টাকা।
কলেজটিতে কম্পিউটার জানা কোনো ইনস্ট্রাক্টর ও অফিস সহকারী না থাকায়, সব ধরনের অফিসিয়াল ও কম্পিউটার সংক্রান্ত সকল কাজ তিনিই করেন। এছাড়াও আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার আহবায়কও তিনি। এ অবস্থায় তাকে বদলি করা হয়েছে অন্য কলেজে। এছাড়া স্বল্প বেতনের এ প্রভাষকের জন্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চাকরি করাটাও কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রভাষক মো. মোশাররফ হোসেনের জায়গা বদলি করা হয়েছে পাথারঘাটা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনার প্রভাষক অপর্ণা চৌধুরীকে। তিনি গত আগস্ট মাস থেকে ৬ মাসের মতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। সমন্বয় করার জন্য বদলি করার কথা হলেও এখানে একমাত্র শিক্ষককে বদলি করে দেয়া হয়েছে ছুটিতে থাকা আরেকজন শিক্ষিকাকে।
জানতে চাইলে মো. মোশাররফ হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, আমার সাথে অমানবিক একটা কাজ করা হয়েছে। যা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমাকে যেখানে বদলি করা হয়েছে, বেতনের টাকায় সেখানে যাতায়াতের খরচও হবে না। তাছাড়া আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। কিছুদিন আগে আমার মেজর অপারেশন হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে কলেজটি শুরু হওয়ার পর থেকে সকল ধরনের তথ্যভিত্তিক ও অফিসিয়াল কাজগুলো করছি। আমাকে কেনো বদলি করা হয়েছে, তা আমি ভেবেও পাচ্ছি না।
মুশফিকা রহমান, কর্মরত ছিলেন দেওয়ান হাট সিটি কর্পোরেশন কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাষক হিসেবে। পাশাপাশি পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজে ৩দিন ক্লাস নিতেন। তিনি সন্তান সম্ভবা। ফলে ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে পূর্ব বাকলিয়া কলেজে ক্লাস নিতে যেতে কষ্ট হতো। তাই তিনি মেয়রের কাছে আবেদন করেছেন তাকে খন্ড কালীন কলেজটি থেকে বদলি করে অপর্ণাচরণে দিতে। সে জায়গায় তাকে স্থায়ীভাবে বদলি করা হয় অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে এবং খন্ড কালীন হিসেবে দেয়া হয় পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে।
মুশফিকা রহমান পূর্বদেশকে বলেন, আমি মেডিকল লিভে রয়েছি। শনিবার কলেজে জয়েন করবো। বাকলিয়া যেতে কষ্ট হতো। তাই আবেদন করেছিলাম খন্ড কালীনটা যাতে অপর্ণাচরণে দেয়। সেখানে আমাকে দুটো বদলি করা হয়েছে, তাও অনেক দূরে দূরে। তিনি আরো বলেন, আমি আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৪ মাসের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নিবো।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কলেজগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম সমন্বিতকরণে ৬১ জন প্রভাষককে বদলি করা হয়। যার মধ্যে ৩০ জনকে স্ব-বেতনে স্থায়ীভাবে এবং বাকি ৩০ জনকে খন্ড কালীন পর্যায়ে বদলি করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে এই বদলি কার্যকর করা হয়। আদেশে বদলিকৃত প্রভাষকদের আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে নির্দেশকৃত কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। এরপর যিনি এসেছেন, তিনি দু’দিন অফিস করেই ট্রেনিংয়ে গেছেন। এ সময়টায় কাজটি হয়েছে। যার কারণে কয়েকটি জায়গায় তথ্যগত অসামাঞ্জস্যের কারণে এমনটা হয়েছে। যাদের সমস্যা হয়েছে, তারা আবদেন করলে, আমরা ঠিক করে দিবো।
তিনি বলেন, এ সমন্বয়ের পরও শিক্ষকদের ঘাটতি থাকবে, সে হিসেবে আমরা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তগুলো নিবো।