চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

24

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)। এ প্রকল্পের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এটিই চসিকের এ পর্যন্ত গ্রহণ করা সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে জানা গেছে। সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ম্যাচিং ফান্ড ২০ শতাংশ থেকে কমানোর অনুরোধ করবেন বলে জানান।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে শহরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপ‚র্ণ রাস্তার কাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯৮৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। বাকি ২৪৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা দেবে চসিকের নিজস্ব আয় থেকে। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ২০ শতাংশ। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত।
প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা যায়,এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩২ দশমিক ০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রাস্তার উন্নয়ন, ৩৭টি ব্রিজ নির্মাণ এবং বাস-ট্রাক টার্মিনালের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে তিন হাজার বর্গমিটার। কালভার্ট নির্মাণ করা হবে ২১৫ মিটার। ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে ২৫ হাজার বর্গমিটার আর ভ‚মি অধিগ্রহণ করা হবে আট দশমিক ১০ একর।
এদিকে প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপ‚র্ণ দিক হচ্ছে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা। দীর্ঘদিন ধরেই নগরীতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। বন্দর থাকায় চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ছোটবড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি আসা-যাওয়া করে। এর সঙ্গে আছে তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজারসহ আন্তঃজেলার যানবাহন। টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হত। এমন পরিস্থিতিতে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকার কুলগাঁও ও বন্দর টোল প্লাজা এলাকায় ( ওয়ার্ড ২ এবং ৩৭) ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গায়। উল্লেখ্য, এর পাশেই ১০ তলা বিশিষ্ট কার পার্কিং নির্মাণ হচ্ছে সাগরিকা ওয়ার্ডে।
অপরদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৩২ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৭৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অ্যাপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ ৩৭টি ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় করা হবে ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২১৫ মিটার কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা (অ্যাপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ)। তিন হাজার বর্গমিটার টামিনালের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ৭ কোটি টাকা। ড্রেনেজসহ ২৫ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। ভ‚মি ক্রয়ে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি টাকা আর ৩২ হাজার ৮০১ বর্গমিটার ভ‚মি উন্নয়নে ব্যয় হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া ফিজিক্যাল ও প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে ব্যয় হবে ২৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। চসিকের যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয় তার অধিকাংশ অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে খরচ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ম্যাচিং ফান্ড হলে আমাদের বহন করা অনেক কষ্টসাধ্য হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, যাতে এ জায়গাটিতে আমাদের কমিয়ে দেয়া হয়।