ভয়াবহ পাহাড়ধসের দুই বছর আজ

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক এখনও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি

এম. কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি

16

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের দুই বছর পরও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার হয়নি। ২০১৭ সালে ১৩ জুন পাহাড়ধসে বিধ্বস্ত হয় রাঙামাটির সড়কগুলো। এখনো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি এসব সড়ক।
বর্ষার আগেই পাহাড় ধসে ভেঙে পড়া সড়কগুলোর মেরামত ও সংস্কারকাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। গত রোববার অনুষ্ঠিত মাসিক জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জেলা সড়ক বিভাগকে এ তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু এবার বর্ষার আগে এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে জানায় রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জুনের আগেই রাঙামাটি-চট্টগ্রামসহ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ১২৮টি স্থানে স্থায়ী মেরামত ও পুনঃনির্মাণ কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজও তা অনুমোদন হয়নি। সড়কগুলোর স্থায়ী মেরামত ও পুন নির্মাণে ১৭০ কোটি টাকার ডিপিপি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। ডিপিপি প্রস্তাবনায় জেলার বিভিন্ন সড়কের ১২৮ পয়েন্টে ৪ হাজার ৭২৫ মিটার পাইলসহ রিটেইনিং ওয়াল এবং স্লোপ প্রটেকশন নির্মাণ ও কিছু সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
২০১৭ সালের ১৩ জুন সবচেয়ে বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে রাঙামাটিতে। এতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরের বছর জেলার নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে ফের ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি-চট্টগ্রামসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো আজও বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে আবার সড়ক ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা সদরসহ রাঙামাটির ৭টি উপজেলা এবং পাশ্ববর্তী জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দবানের অন্তত ১০ লাখ মানুষ এসব সড়কের ওপর নির্ভরশীল। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো গাছের খুঁটি আর মাটি ভরাট করে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়েছে। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ হয়। এরপরও সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যায়।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, রাঙামাটি শহরে ৩৩, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে ৫৬, রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ২৬, বাঙ্গালহালিয়া-রাজস্থলী সড়কে ৫ এবং বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু সড়কে ৩ স্থানসহ মোট ১২৮টি স্থানে সড়ক ধসে গেছে। এসব স্থানে স্থায়ী কাজের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাহাড় ধসের পর এসব সড়কের ১১৩ স্থানে ভাঙন ও গর্তের সাময়িক সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে আট কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি শালবাগান এলাকায় ধসে যাওয়া মূল সড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে একটি বেইলি সেতু। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এদিকে ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের দুইবছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি রাঙামাটি জেলা। ফলে আবার বর্ষা আসায় জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে দুর্যোগে রাস্তাঘাটসহ নানা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি শালবাগান এলাকায় মূল সড়কটি ধসে ১০০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়।
সরেজমিন রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের কয়েকটি স্থানে ঘুরে দেখে যায়, সড়কের ভাঙনে গাছের খুঁটি দিয়ে পাইলিং দেওয়া হয়েছে। বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এসব বস্তা আর খুঁটিকে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে লোহার দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত বর্ষায় পানির প্রবাহে এসবও ধসে গেছে।
রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, বর্ষার আগেই সড়কগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা দরকার ছিল। আশঙ্কা ও ভোগান্তি নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।