চট্টগ্রাম মহানগরীর মোড়সমূহে চাই সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা

9

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার ২ সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদন থেকে জানা যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ২০টি মোড় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে এ নিয়ে প্রতিবেদক বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরী দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহনগরী। শহর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি অফিস-আদালত শিল্প কারখানা এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম রয়েছে। শহরের দক্ষিণাংশের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ড্রাইডক, ইস্টার্ণ রিফাইনারি, স্টীলমিল, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি রয়েছে। নগরীর মাঝামাঝি নিউমার্কেট, সদরঘাট, জিপিও, আদালত ভবন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যামান। লালদিঘির পূর্ব দিকে রয়েছে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। উত্তরে অক্সিজেন পর্যন্ত নানা শিল্প কারখানা, আবার ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের আশপাশেও রয়েছে শিল্প কারখানা। শহরের উত্তর পূর্বে কালুরঘাট শিল্প এলাকা। ঢাকা মহানগরীর চেয়ে জনসংখ্যা তুলনা মূলকভাবে কিছুটা কম হলেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে লক্ষ লক্ষ লোকের বসবাস ও কর্মস্থান রয়েছে। যা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের চেয়ে অনেকগুণ জনবাহুলতায় সমৃদ্ধ। চট্টগ্রামের গণপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সন্তেুাষজনক নয়। গণপরিবহন সড়ক আইন মানেনা। গাড়ির মালিক-শ্রমিক অতিমাত্রায় বেপরোয়া। ট্রাফিক আইনের কোন তোয়াক্কা করে না সব ধরনের যানবাহন। আবার ট্রাফিক ও পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে নগরীর মোড়ে মোড়ে যানজট আরো বেড়ে যায়। যাত্রী উঠানামা থেকে সবধরনের ঝামেলার স্থান হলো নগরীর মোড়গুলো। কোতোয়ালীর মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, দেওয়ান হাট মোড়, আগ্রাবাদ মোড়, ইস্পাহানির মোড়, প্রবর্তক মোড়, জিইসির মোড়, ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট মোড়, চকবাজার মোড়, ইপিজেট গেইট মোড়, কাটগড় মোড়সহ সবখানেই একই চিত্র। এলোপাথারি গাড়ি পার্কিং, মোড়ে যাত্রী উঠানামা, ট্রাফিক ও পুলিশের চাঁদাবাজি ইত্যাদি বিবেচনা করলে নগরীর মোড়গুলোতে যানবাহনের কোন শৃঙ্খলা আছে, কিংবা কেউ ট্রাফিক আইন জানে এমন কোন চিহ্ন দেখা যায় না। ট্রাফিক আইন অনেকে জানে না, আবার অনেকে জানে কিন্তু মানে না।
এমতাবস্থায় নগরীর মোড়গুলো যাত্রী সাধারণের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে এক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম মহানগরীর মোড়গুলোর ব্যবস্থাপনা ঠিক হয়ে যায়। ভ্রাম্যমান আদালত মাঝে মধ্যে কাজ করে থাকে। কিন্তু ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করে অফিস চালাকালীন সময়ের মধ্যে, অফিস সময়ের পরে আবার গাড়ির শৃঙ্খলা যথাপূর্বংতথাপরং হয়ে পড়ে। সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে যানবাহনের অরাজক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। নগরীর মোড়সমূহ যানজট মুক্ত রাখা, যাত্রী উঠানামাকে নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে অবশ্যই নগরীর মোড়গুলো দুর্ঘটনা মুক্ত থাকবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।