চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় যানজট নিরসনে বন্দর কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে

10

প্রায় অর্ধমাসজুড়ে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সড়কগুলোতে প্রতিদিন অস্বাভাবিক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমই বিঘ্ন হচ্ছেনা শুধু, নগরীর আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গা বিমানবন্দর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে ২ থেকে ৩ঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক যান চলাচলে এ পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে আধঘন্টা, বেশি হলে সর্বোচ্চ ৪০মিনিট। সূত্র জানাই, টানা বৃষ্টি, সিডিএ ও ওয়াসার উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে এ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শ্লথ হয়ে আসছে। বিদেশী ক্রেতা কার্যাদেশ না দিয়ে ফিরে যাচ্ছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে নিঃসন্দেহে। বন্দর এলাকায় যানজট নিয়ে চেম্বারের উদ্বেগ ও গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং খোলেখির পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সাথে যানজট নিরসনে বেশ কিছু প্রস্তাবনাও তারা দিয়েছেন । আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনাগুলোর সাথে সহমত পোষণ করছি, তবে একথাও ঠিক এ এলাকায় যানজট সৃষ্টিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ একেবারে দায় এড়াতে পারে না।
এর আগে ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় অসহনীয় যানজট, আমদানি ও রপ্তানি কন্টেইনার পরিবহন সংকটসহ সার্বিক পরিস্থিতির মাঠ পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিতকরণে একসমন্বয় সভার আয়োজন করেছিল দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ। এ সভায় চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছিলেন-৭/৮ দিনের যানজট, বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আর্থিক কর্মকান্ড ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতি বৃষ্টি, যানজট, জলজট ইত্যাদি কারণে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ব্যবসায়ীগণ অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক বিদেশী ক্রেতা কার্যাদেশ না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ ধরণের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নগরীর উপর চাপ কমিয়ে বন্দরের গতিশীলতা বজায় রাখতে অতি সত্ত্বর বে-টার্মিনাল এলাকায় ডেলিভারী ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ফাস্টট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবী জানান । অন্যথায় সরকারের লক্ষ্য অর্জনে চরম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
এর তিনদিন পরই বন্দর কর্তৃপক্ষ যানজট ও বন্দরের কার্যক্রম বন্দ রাখার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য সাংবাদিকেদের কাছে তুলে ধরেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক প্রতিকূল আবহাওয়া (জলাবদ্ধতা), পোর্ট কানেকটিং সড়ক সংস্কার, বারিক বিল্ডি থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম ওয়াসার উন্নয়ন কার্যক্রম, বন্দরের যানবাহন ও গণপরিবহন একই রাস্তায় চলাচল, সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য মূল সড়ক সংকুচিত হওয়া এবং চট্টগ্রাম শহরের জন্য বিকল্প সড়ক তৈরি না হওয়ায় বন্দর এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এ সময় তিনি গত ১০-১২ দিন চট্টগ্রাম শহরে টানা বৃষ্টির কারণে বন্দরের বাইরে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চট্টগ্রাম ও বন্দর সংলগ্ন সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় সড়ক সংস্কার কাজ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং বন্দরে ট্রাক, ট্রেইলার ও কাভার্ড ভ্যান প্রবেশের বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বন্দরের বাইরে যানজটের সৃষ্টি হয়। যা কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে সৃষ্টি হয়নি।
বন্দর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তবে তিনি যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল ইয়ার্ডের নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়ে বলেছেন, সেখানে এফসিএল কন্টেইনারের পণ্য ডেলিভারীর পাশাপাশী একটি আধুনিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রেইলার টার্মিনাল নির্মাণ করছে এই নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরের ভিতরে যানজট কমে আসবে। এর পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম শহরের জন্য প্রস্তাবিত দুইটি রিং রোড বাস্তবায়ন, নিমতলা-অলংকার-আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা জরুরি বলে মত দেন। আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মতামত ও যানজট নিরসনে তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রতি সহমত পোষণ করছি। একই সাথে প্রত্রাশা করছি, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিডিএর সাথে চট্টগ্রাম নগরীর যানজটসহ নানা সমস্যা ও সংকটের সমাদানে বন্দর কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে। কারণ চট্টগ্রামের অস্তিত্ব এ বন্দরের উপরই। বন্দর কোনভাবেই তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না।