চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং আরো গতিশীল রাখতে হবে

8

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আয়ের উৎস। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর, বন্দর হিসেবে বিশ্বে বিশেষ মর্যাদার দাবিদার। কেননা প্রাকৃতিক ভাবে এমন সমুদ্রবন্দর বিশ্বে খুব একটা নেই। চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়িদের আগ্রহের শেষ নেই। প্রতিবেশি বন্ধু প্রতিম ভারত সরকারও এ বন্দর ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ। তা ছাড়া নেপাল, ভূটানও এ বন্দর ব্যবহার করবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত। দেশ-বিদেশের আমদানি-রপ্তানিতে দেশের এ প্রধান সমুদ্র বন্দর বিশেষ ভ‚মিকা রেখে চলেছে। দেশের রাজস্বের সিংহভাগ আসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। তবু কর্তৃপক্ষ এ বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়নে অনেক খানি পিছিয়ে বলা যায়। নিকট অতীতে সরকার ও কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকয়ান এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বহু পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। বেসরকারি কন্টেইনার টার্মিনাল চালু এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে বন্দরের কাজে গতি এসেছে। তবে এ গতি পর্যাপ্ত নয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বিশাল এ বন্দরের চাহিদা অনুসারে আরো প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করা প্রয়োজন। মাত্র ১০টি গ্যান্টি ক্রেনের সহায়তায় পণ্যভর্তি কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে যত খানি গতি এসেছে তাতে আরো প্রযুক্তির সংযোজন করলে এ গতি স্থায়িত্ব লাভ করবে।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিগত শনিবার ১ ডিসেম্বর একদিনে (২৪ ঘন্টায়) চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানিমুখী পণ্যবাহী কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৬ টিইইউএস। এটা ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং। এমন অগ্রগতি আমরা সব সময় আশাকরি।
আগামীতে সংগত কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ বাড়বে। কেননা ভারত, নেপাল, ভ‚টানসহ আরো বিদেশি যদি এ বন্দর পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার শুরু করে স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘিœত হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো গতিশীল করতে কর্তৃপক্ষকে সক্ষমতা বৃদ্ধির সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন টার্মিনাল, জেটি-বার্থ, ইয়ার্ড নির্মাণ, প্রয়োজনীয় নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করা এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ অতিদ্রæত সময়ের মধ্যে শেষ করে অপারেশনে আনা গেলে গত ১ ডিসেম্বর ২০১৮ এর মতো কন্টেইনটার হ্যান্ডেলিং অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি রপ্তানি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আরো ভ’মিকা রাখুক ্এমন কামনা সমগ্রদেশবাসীর।