বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ২০১৯

চট্টগ্রাম জেলা দলগঠনে ক্ষুদে ক্রিকেটারদের ঢল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

10

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম প্রতি মওসুমের মত এবারও শুরু হচ্ছে বছরের শেষের দিকে। রুটিনমতে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব ১৮, জানুয়ারির প্রথম সপ্তায় অনূর্ধ্ব ১৪ ও এসএসসি পরীক্ষার পর অনূর্ধ্ব ১৬ আন্ত: জেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হবে। বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার মাধ্যমে দেশের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিসিবির নির্দেশনামতে জেলা দলগুলো গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল ছিল চট্টগ্রাম জেলা অনূর্ধ্ব ১৪ ও অনূর্ধ্ব ১৬ দলের প্রাথমিক দলগঠনের জন্য ক্রিকেটার বাছাইয়ের দিন। সকাল ৯ টার আগে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বর ক্ষুদে ক্রিকেটারদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে। খেলোয়াড়দের চাইতে অভিভাবকদের সংখ্যা ছিল আরো বেশি। তবে জেলা দল কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে কোন দায়িত্ব না দেয়ায় বিসিবির কার্যক্রমে সিজেকেএস’র কোন উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং বিসিবির সাবেক এক পরিচালকসহ সিজেকেএস’র একাধিক কর্মকর্তা বেশ ক্ষোভের সাথেই বলেছেন, জাতীয় ক্রিকেট লিগের মত বয়স ভিত্তিক দলও বিসিবি জেলার উপর চাপিয়ে দিলে জেলার নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের কি কাজ? এভাবে বিসিবির বেতনভুক কর্মচারীরা জেলা দলে কারা খেলবে ঠিক করে দিলে সৎ, নি:স্বার্থ, জেলার স্বার্থপ্রেমী সংগঠকরা আর ক্রীড়াঙ্গনমুখি হবে না। খেলাধুলা এক সময় সম্পূর্ণভাবেই ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাবে।
সংগঠকের ক্ষোভের যৌক্তিকতা কালই প্রমাণিত হয়েছে কিছুটা। শত শত অনূর্ধ্ব ১৪ ছেলেরা সকালে ৮টা থেকে ভিড় করলেও কি হবে, কিভাবে হবে বোঝা যাচ্ছিল না। সকাল ৯ টায় বিসিবির হাই প্রোফাইল কোচ নূরুল আবেদিন নোবেল সিজেকেএস নেটে এসে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন- নেট ছেড়া, বোলিং রান আপের জায়গায় বড় বড় গর্ত যা বোলারদের বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সিলেকশনের জন্য বিসিবির নির্দেশনামতো জাতীয় ক্রিকেটারদের (গতবার ছিলেন আফতাব, কাজী কামরুল, মিঠু) না দেখে তিনি জেলা কোচের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সিজেকেএস বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ আলী আব্বাস ও ক্রিকেট সেক্রেটারি আবদুল হান্নান আকবর এসে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়ার পর ক্রিকেটার বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। আলহাজ আলী আব্বাস নির্বাচকদের সততা এবং নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।
প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত শ’ পাঁচেক অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে বোলিং-ব্যাটিং দেখে ৫০ জনের মত ক্রিকেটার বাছাই করেছেন নির্বাচকরা। সীমিত সময়ে স্বল্প সুযোগে খেলোয়াড় বাছাইয়ে অনেক অভিভাবক অভিযোগ আর ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। গতবার যে চট্টগ্রাম টিম বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেখান থেকে অধিকাংশ খেলোয়াড় এবারও আছে। সিজেকেএস বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ আলী আব্বাস ও ক্রিকেট সেক্রেটারি আবদুল হান্নান আকবর বলেছেন, খেলোয়াড় বাছাই শতভাগ শুদ্ধ হবে তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। তারপরও যদি কোন প্রতিষ্ঠিত পারফর্মার বাদ পড়ে আমরা যাচাই-বাছাই করে সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করব।
অন্যদিকে অনূর্ধ্ব ১৬ দলের জন্যও তিন শতাধিক ক্রিকেটার রিপোর্ট করেছে যাদের সবার ব্যাটিং-বোলিং দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের পারফর্ম্যান্স আজ দেখার পর প্রাথমিকভাবে ৪০/৫০ জনের তালিকা সিজেকেএস বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির কাছে জমা দেয়া হবে। আজ অনূর্ধ্ব ১৮ দলের ক্রিকেটারদের বাছাই সম্পন্ন হবে। কয়েকদিন পর বিসিবির ডাক্তার কতৃক বয়স বাচাইয়ের পর ৩৫/৪০ জন নিয়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টিমের অনুশীলন শুরু হবে জেলঅর চুড়ান্ত দল গঠনের লক্ষ্যে।