চট্টগ্রামে শিল্পী সুহৃদ সংঘের মনোমুগ্ধকর সংগীতানুষ্ঠান

মাসুদ নাসির

29

সংস্কৃতির শেকড় সন্ধান ও ধারই করার প্রত্যয়ে মাত্র কয়েকবছর আগে শিল্পী সুহৃদ সংঘ বাংলাদেশ এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। আত্মপ্রকাশের পর তাদের ৩ টি প্রযোজনার মাধ্যমে তারা তাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করেছে শ্রোতাদের সামনে।
গত ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টায় চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সুহৃদ সংঘের ৩য় প্রযোজনা ছিল ৫ জন নবীন শিল্পীর পরিবেশনা। বয়সে নবীন হলেও ৫ জন শিল্পীর অনবদ্য পরিবেশনা উপচে পড়া দর্শক শ্রোতা সেদিন উপভোগ করেন তুমুল করতালিতে।
অনুষ্ঠান এর সঞ্চালক আবৃত্তি শিল্পী এবং উপস্থাপক দিলরুবা খানম প্রথমে আমন্ত্রন জানান উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী কলকাতা রবীন্দ্র বিশ্ব ভারতী হতে শাস্ত্রীয় সংগীতে সদ্য এম মিউজিক করা শিল্পী নরেন চক্রবর্তীকে। শিল্পী প্রথমে বিলম্বিত একতাল এবং পরে ত্রিতাল মধ্য লয়ে যোগ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন। শিল্পীর সাথে তবলা সংগতে চট্টগ্রামের বিখ্যাত তবলা গুরু সুদীপ সেনগুপ্তের অনবদ্য সংগত খেয়াল পরিবেশনকে আরোও শ্রæতিমধুর করে। এরপর শিল্পী নরেন চক্রবর্তী মিশ্র শিবরন্জনী রাগে পরিবেশন করেন একটি ঠুমরী। শিল্পীকে হারমোনিয়াম এ সহযোগিতা করেন রাজেস সাহা এবং তানপুরায় তপু বড়ুয়া।
অনুষ্ঠান এর দ্বিতীয় শিল্পী রাঙামাটি বেতার শিল্পী ফুলকি বড়–য়া। শিল্পীর কণ্ঠে দুইটি রবীন্দ্র সংগীত ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে এই মন মনরে আমার’ এবং ‘যদি তারে নাই চিনিলে’ গানগুলোর পরিবেশনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
এরপর সঞ্চালক আমন্ত্রন জানান নজরুল ও আধুনিক গানের বেতার ও টিভি শিল্পী মিলন ধরকে। অত্যন্ত সুরেলা কণ্ঠে তিনি নজরুল এর ভক্তি অঙ্গের গান ‘আমার আনন্দিনী ওমা’ এবং নজরুল এর রাগপ্রধান গান ‘গগনে সগন চমকিছে দামিনী’ গান দুটি দর্শকদের অনাবিল আনন্দ দেন।
অনুষ্ঠান এর পরে রাঙামাটি বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী রওশন শরীফ তানি। শিল্পী তানির কণ্ঠে প্রথম পরিবেশনা আধুনিক গান ‘যখন থামবে কোলাহল’ এবং দ্বিতীয় পরিবেশনা ‘তখন তোমার ২১ বছর বয়স’ গান দুটির পরিবেশনা ছিলো অনবদ্য।
সেদিনের সংগীতানুষ্ঠান এর শেষ শিল্পী চট্টগ্রামের পরিচিত সংগীত ও আবৃত্তি শিল্পী তামান্না ইসলাম। তার প্রথম পরিবেশনা ছিলো হাসান রাজার গান ‘মরন কথা স্মরণ হইলো না রে’ এবং লালন সংগীত ‘দিল দরিয়ার মাঝে দেখলাম আজব কারখানা’ ও ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’। তামান্নার কণ্ঠে পর পর তিনটি গান উপস্থিত শ্রোতা মÐলীর অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেন।
শিল্পীদের সাথে কিবোর্ডে : নিখিলেশ বড়ুয়া, অক্টোপ্যাডে : রনি চৌধুরী, বাঁশীতে : গ্রানেশ, তবলায় : প্রীতম আচার্য্য, বেইজ গীটারে: তন্ময় বড়ুয়া এবং লীড গীটারে : আসিফুল আলম এর যথাযথ সঙ্গতে সেই দিনের সংগীতানুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করেন। অনুষ্ঠানে শিল্পীর জীবনী পাঠ করেন আনন্দ প্রকৃতিবাদী, সুপণ বিশ্বাস, খোদেজা আক্তার ভাষা এবং তিশা দেওয়ান।
এর আগে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করেন ৩৬ নং গোসাইলডাঙ্গা নিমতলা ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর লায়ন হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পরে সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী চন্দন দাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য্য, সংগঠনের কো- চেয়ারম্যান প্রকৌশলী প্রকাশ ঘোষ।
অনুষ্ঠানে দুই সংগীত গুরু পন্ডিত স্বর্ণময় চক্রবর্তী এবং ওস্তাদ রাজেস সাহাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহবায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্ত এবং সদস্য সচিব রানা বড়ুয়া।
শিল্পী সুহৃদ সংঘ বাংলাদেশ যেই প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, তাদের সেই লক্ষ্য যেন পূরণ হয় সকলের সেই প্রত্যাশা রইল।