চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর পদচারণা

29

মো. মোরশেদুল আলম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর যোগসূত্র ছিল। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রামের অবস্থান ছিল রাজধানী ঢাকার পরেই। বঙ্গবন্ধু সেটা জানতেন এবং বুঝতেন বলেই তিনি চট্টগ্রামের নেতা-কর্মীদের সেভাবে গুরুত্ব দিতেন। তাঁদের সাথে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। চট্টগ্রামকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর জীবনে রয়েছে অনেক স্মৃতিবিজড়িত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর অনেক ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বন্ধু ছিলেন চট্টগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রামের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এবং পরের বছর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য শুরু থেকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা এবং সফরের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামেই প্রথম আসেন বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কাজে পরের বছরও তিনি চট্টগ্রামে আসেন। রাজনীতির সূত্র ধরে এখানকার তৎকালীন অনেক নেতা-কর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর। অনেকের বাসা-বাড়িতে যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া ও রাত্রিযাপনের মধ্য দিয়ে পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর রাউজান থানা আওয়ামী লীগ ও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. জাকেরিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, “১৯৪৮ সালে তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাংগঠনিক কাজে চট্টগ্রামে আসেন। এম এ আজিজের শহরের বাসায় তিনি অবস্থান করছিলেন। এম এ আজিজ আমাকে খবর পাঠালে আমি সেখানে যাই। তিনি আমাকে তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন আমরা তাঁকে মুজিব ভাই ডাকতাম। তিনি তখনকার সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে সংগঠন গড়ে তোলা ও গোছানোর প্রয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ সময় আমাকে রাউজান থানা ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর কথাবার্তা শুনে তখন মনে হয়েছিল, এই তরুণ নেতা একদিন বড় মাপের নেতা হবেন। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম শহরে আসার খবর পেলে আমিও ছুটে আসতাম’।
বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি তথা ছয়দফা ষোষণা করেছিলেন এই চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান থেকে। এই ছয়দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ২৫ ফেব্রæয়ারি লালদীঘি ময়দান থেকে প্রথম প্রকাশ্যে ছয়দফা ঘোষণা করেছিলেন। ঢাকায় ছয়দফা ঘোষণার অনুকূল পরিস্থিতি ও পরিবেশ ছিল না। বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন ঢাকায় জনসভা করলে মোনায়েম খান পুলিশ দিয়ে তা পÐ করে দেবেন। তাই তিনি চট্টগ্রামের বন্ধু ও আওয়ামী লীগ নেতা এম এ আজিজ ও জহুর আহমেদ চৌধুরীকে চট্টগ্রামে জনসভা আয়োজন করতে বলেছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জহুর আহমদ চৌধুরী।
পাকিস্তান সামরিক সরকার বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করলে এর প্রতিবাদ এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি জানিয়ে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি এম এ আজিজ চট্টগ্রামে ‘মুজিব দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছিলেন। মুজিব দিবস উপলক্ষে ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে আসলে সদরঘাটস্থ হোটেল শাহজাহানে থাকতেন। হোটেলের ৭ নম্বর রুমটি তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল। কারণ রুমটি একটু বড় এবং খোলামেলা ছিল। যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি ছিল যে, বঙ্গবন্ধুকে রুম দেওয়াটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও শাহজাহান হোটেলের মালিক আব্দুল মাবুদ বঙ্গবন্ধুকে রুম দিতে পরোয়া করেন নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিয়ে ঢাকায় হলেও চট্টগ্রামের রাইফেল ক্লাবে একটি রিসিপশনের আয়োজন হয়। শেখ হাসিনা ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হোটেল শাহজাহান থেকেই রিসিপশনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে এসে হোটেল শাহজাহানে ছিলেন। হোটেল শাহজাহান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে স্টেশন রোডের হোটেল মিশকাতে থাকতেন বঙ্গবন্ধু।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে এসেছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রার্থী ফজলুল কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপক মো. খালেদ। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণার জন্য রাউজানে গিয়েছিলেন। জহুর আহমদ চৌধুরীর পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগের দুর্গ ভাঙতে রাউজান গিয়েছিলেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার। আমার ভাই শহিদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীও আমাদের সফরসঙ্গী ছিলেন। আমার সাথে আরো ছিলেন তৎকালীন সিটি কলেজ সংসদের সহ-সভাপতি হারুনুর রশীদ। সেদিন বঙ্গবন্ধুর গাড়িকে আক্রমণ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তরা আমাদের গাড়ি আক্রমণ করে বসল। আমার বন্ধু হারুনুর রশীদ নিহত হন। আমি এবং আমার সহকর্মী সফর আলী মারাত্মকভাবে আহত হই। আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তখন গুজব রটে যায় আমি নিহত হয়েছি। খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সবাই যখন আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নামছিল তখন বঙ্গবন্ধু সবাইকে শান্ত করে বলেন, মাহতাব বেঁচে আছে। তোমরা হতাশ হইও না। তোমরা ওদেরকে রক্ত দাও। সাধারণ মানুষ আমাদেরকে রক্ত দিয়েছিল’।
মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর চট্টগ্রাম সফর প্রসঙ্গে বলেন, ‘কতবার আমাদের বাড়িতে এসেছেন তা মনে নেই। ১৯৬৬, ৬৮, ৬৯, ৭০ সালেও এসেছিলেন। তখন আমাদের বাড়ি ছিল টিনশেড এবং বাঁশের বেড়া। বর্তমানে যেখানে আমার পিতার কবর রয়েছে। সেখানেই আমাদের ঘরটি ছিল। কবরের পাশে খোলা মাঠে নির্জনে বঙ্গবন্ধু বৈঠক করতেন আমার পিতা, এম এ আজিজ, মানিক চৌধুরী, ডা. ছৈয়দুর রহমান, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আবদুর রহমান চৌধুরীর সাথে। বৈঠক শেষ হতে রাত ১২টা থেকে ১টা বেজে যেত’। মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু আমার পিতাকে সাথে রাখতেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর রাওয়ালপিন্ডি গোলটেবিল বৈঠকে যখন যাচ্ছিলেন, তখন চট্টগ্রাম থেকে আমার পিতাকে দ্রুত ঢাকায় যেতে বললেন বঙ্গবন্ধু। তুই তাড়াতাড়ি আয়। আমার বাবা একজোড়া বাটা জুতা পরে এক কাপড়ে ঢাকায় যান। বঙ্গবন্ধুর সাথে রাওয়ালপিন্ডি যান। ভুট্টো দাবি মানল না। বৈঠক সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধু নিরাশ হয়ে ফিরে এলেন’।
জহুর আহমদ চৌধুরীর নিকট স্বাধীনতার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এ প্রসঙ্গে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার পিতাকে বঙ্গবন্ধু এতবেশি বিশ্বাস করতেন এবং এতবেশি আস্থা রাখতেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন আক্রমণ করল, তখন আমাদের একটি টেলিফোন ছিল ৮০৭৮৫। এই টেলিফোনে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশে অনেক নেতা থাকা সত্তে¡ও বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র আমার পিতার কাছেই স্বাধীনতার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তাটির কিছু অংশ মনে আছে। ‘০০০ ঐড়ঁৎং, ঝঁফফবহষু চধশ ধৎসু অঃঃধপশ জধুধৎনধম, চরষশযধহধ ধহফ উযধশধ টহরাবৎংরঃু. ঞযবু শরষষবফ ষধপ ধহফ ষধপং.’ মূল বার্তা ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করছে। বাঙালি জাতির ওপর আক্রমণ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ হল, তোমরা যেখানে থাক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোল। একজন পাকিস্তানি সৈন্য থাকলেও শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তাদের প্রতিহত কর। আমাদের জয় নিশ্চিত। তুমি একথাটা সবার কাছে পৌঁছে দাও। বন্দরের বহিঃনোঙরে থাকা বিদেশি জাহাজের ওয়ার্লেসের মাধ্যমে আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর বার্তাটি দেশ-বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন’।
জহুর আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সর্বশেষ পদচারণ প্রসঙ্গে মাহতাব উদ্দিন চৌধুধী বলেন, ‘আমার পিতা মারা যান ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই সকাল ৬:৪৫ মিনিটে। মারা যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ঢাকার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু আমার পিতাকে দেখতে আসেন। সেখানে আমার পিতাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, জহুর আমাকে ক্ষমা করে দিস। তখন আমার বাবার হুঁশ ছিল না। বঙ্গবন্ধু অশ্রুসজল নয়নে রুমাল দিয়ে শুধু চোখ মুছছিলেন।…বঙ্গবন্ধু যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমার পিতা মৃত্যুবরণ করলেন। সিদ্ধান্ত দিলেন জহুর আহমদ চৌধুরীকে তিনটি মর্যাদা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয়, সামরিক এবং সংসদীয় মর্যাদা। তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা সংসদ ভবনের সামনে হবে। তারপর চট্টগ্রামে হবে। নামাজে জানাজা শেষে বঙ্গবন্ধু আমার পিতার লাশ নিয়ে চট্টগ্রামে এলেন। দাফনশেষে বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়িতে এসে অশ্রুসজল নয়নে জড়িয়ে ধরে আমাকে বললেন, জহুর আমার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গী। তাকে হারিয়ে আমি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। আমার বলার কোন ভাষা নেই। আমি অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছি।…দলের জন্য জহুর যা করেছে বাঙালি জাতি যুগ যুগ ধরে তা স্মরণ রাখবে’।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘আমরা সামনে গেলেই জড়িয়ে ধরতেন বঙ্গবন্ধু। জড়িয়ে ধরে বলতেন ‘জয়বাংলা’। বঙ্গবন্ধু আসার সংবাদ পেলে লাক্ষ্যা শুঁটকি নিয়ে আসতেন বাবা। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খাদ্য ছিল শিমের বিচির সাথে লাক্ষ্যা শুঁটকি। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রিয় ছিল চট্টগ্রামের মিষ্টি পান। চট্টগ্রাম থেকে কেউ ঢাকায় গেলে বঙ্গবন্ধুর জন্য লাক্ষ্যা শুঁটকি এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্য মিষ্টি পান নিয়ে যেতেন’। এম আর সিদ্দিকীর বাসায়ও ছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চট্টগ্রামের আজিজ মিয়া, জহুর আহমেদ চৌধুরী, সুলতান আহমেদ কন্ট্রাকটার, এম এ আজিজ প্রমুখের সুসম্পর্ক ছিল। আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় এম এ আজিজসহ চট্টগ্রামের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বঙ্গবন্ধুকে দেখতে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু দুঃখ প্রকাশ করে এম এ আজিজকে বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়েটা ভালভাবে দিতে পারলাম না’। এম এ আজিজ বঙ্গবন্ধুকে সান্ত¡না দিয়ে বলেছিলেন, ‘মুজিব ভাই আপনি টেনশেন করবেন না। আমরা হাসিনা আপার জন্য চট্টগ্রামে একটি রিসিপশনের ব্যবস্থা করবো’। এম এ আজিজ ঢাকা থেকে এসে জানে আলম দোভাষকে (বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের পিতা) বলেন, ‘মুজিব ভাইয়ের মেয়ে শেখ হাসিনার জন্য একটি রিসিপশনের ব্যবস্থা করবো বলে কথা দিয়েছি’। জানে আলম দোভাষ রাজি হয়ে আয়োজনের কথা বলেন। চট্টগ্রামে তৎকালীন বিরিয়ানির জন্য সেরা বাবুর্চি আব্দুল হক বাবুর্চিকে ঠিক করেছিলেন। প্রায় ৫০০ লোকের জন্য কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানো হয়েছিল।
১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করার জন্য বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম সড়ক থেকে হাটহাজারী ও রাঙ্গামাটি সড়ক দিয়ে বেতবুনিয়া পৌঁছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে পথে শত শত তোরণ নির্মিত হয়েছিল। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি রাউজানের গহিরায় পৌঁছেন। সেখানে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল হারুন। বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা ঘোষণা, আগরতলা মামলা পরিচালনার জন্য শেখ মুজিব ফান্ড গঠন, গণআন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার প্রভৃতিতে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিল চট্টগ্রাম।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়