চট্টগ্রামে আধুনিক সৃষ্টিশীল বিশ্ববিদ্যালয় ইউসিটিসি

সাইফুর রহমান

21

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আলোড়ন সৃষ্টিকারি ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রণালী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আলোচিত এবং দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠনে কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করায় প্রায় শতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ গ্রাজুয়েট প্রচুর সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেছে। অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, একাউন্টস, আইটি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞ বিচারক ও আইন বিশেষজ্ঞ অতি সুনামের সাথে ডিগ্রি লাভ করে দেশে ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে দক্ষতা প্রদর্শন করে চলছে।
এই লক্ষকে সামনে রেখে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি) ২০১৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ৭টি কোর্স অনুমতি লাভের মাত্র ২ বছরেই চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র বহদ্দারহাট জংশনে একটি অতি জনপ্রিয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আধুনিক সৃষ্টিশীল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সর্বত্র সুপরিচিত লাভ করে।
একদল দক্ষ-সুশিক্ষিত মেধাবী দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষাদান করে চলেছে এবং ক্লাসরুমের শৃঙ্খলা, ন্যায়নীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখরিত। মাতৃভাষার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা রেখে সকল শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে আমরা সদা সচেষ্ট। যাতে তারা ভালো ডিগ্রি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণ করে বড় বড় চাকরিতে সেবাদান করতে পারে। অতি শান্তিপূর্ণভাবে সরকার ঘোষিত সকল দিবস আমরা অতি যত্নে পালন করে আসছি। বিশেষত বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত, রাজনীতিমুক্ত ও কোলাহলমুক্ত এবং নকলমুক্ত রাখার জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে ইভটিজিংয়ের সুযোগ নেই।
প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ :
উচ্চ শিক্ষিত, ভদ্র-মার্জিত, ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস পরিচালনায় অভিজ্ঞ মানবাধিকার সংগঠক মুহাম্মদ ওসমান ইউসিটিসির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সেক্রেটারি। কর্মদক্ষতায় তিনি পরিচিত ব্যক্তিত্ব। বোর্ডের সভাপতি নবিউল আলম তালুকদারসহ সকল সদস্য বিশ্ববিদ্যালযের গতিশীলতায় অসাধারণ ভ‚মিকা রেখে আসছেন।
উপাচার্য :
অধ্যাপক মো. ইউনুছ ২০১৭ সালে প্রথমে অধ্যাপক এবং স্কুল অব বিজনেসের ডিন পদে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনাসহ ৬টি বিজনেস বিষয়ে বিবিএ, এমবিএ কোর্সে শিক্ষাদান করেন। ২০১৮ সালে ১ আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইউসিটিসির প্রথম উপাচার্য পদে নিয়োজিত হন এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান যোগদানপত্রে অনুস্বাক্ষর করেন।
রেজিস্ট্রার :
অধ্যাপক ড. শেখ সিরাজুল ইসলাম ২০১৭ সালে স্কুল অব বিজনেস এর প্রফেসর এবং পরবর্তীতে প্রথম রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। তিনি উঁচু মানের গবেষক এবং স্বনামধন্য শিক্ষক। তাঁর পরিসংখ্যান ও গবেষণা পাঠদান ছাত্র-ছাত্রীদের চিত্তাকর্ষণ করে।
শিক্ষা কার্যক্রম :
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩টি অনুষদের অধীনে মূল্যবান ও অতি সৃজনশীল ৭টি বিষয় পাঠদান করা হয়। পিএইচডি ও বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা সকলেই নিয়মিত ও স্থায়ী শিক্ষক। এমপিএ ১ বছর কোর্সের ১২ জন উত্তীর্ণ ছাত্র সার্টিফিকেট নিয়ে দেশের অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকুরী করে অনেকে পদোন্নতি পেয়েছেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয় কেন সেরা?
চট্টগ্রামের ইউসিটিসিই প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে নিবিড় সরকারী পরিদর্শনের পর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এমপিএইচ কোর্সের অনুমোদন লাভ করে।
স্কুল অব বিজনেস
নব্বই দশকের শুরু হতে বাংলাদেশের অর্থনীতি উদারীকরণের সাথে সাথে দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ব্যবস্থাপক, সংগঠক ও সৃজনশীল উদ্যোক্তার প্রয়োজন বাড়তে থাকে। চাহিদার সাথে যোগান না বাড়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে শতাধিকেরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এ পর্যন্ত আর্ন্তজাতিক মানের বিজনেস স্কুল গড়ে উঠেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার-অর্থনীতি ও একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৎ, দক্ষ ও যোগ্য মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চট্টগ্রামের ক্রিয়েটিভ স্কুল অব বিজনেস যাত্রা শুরু করে।
সমসাময়িক ব্যবসায়ে শিক্ষা প্রযুক্তির প্রয়োগ, উন্নতবিশ্বে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উদ্ভাবনী এই বিজনেস স্কুল। ইউরোপ-আমেরিকা ও এশিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদলে আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠক্রম অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে বিজনেস স্কুলে দুজন প্রফেসর, একজন সিনিয়র প্রভাষক এবং চারজন প্রভাষক কর্মরত আছেন। যারা শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে ক্রিয়েটিভ স্কুল অব বিজনেসের অধীনে ইউজিসি অনুমোদিত বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। যেকোন বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবে। ১ ও ২ বছরের এমবিএ প্রোগ্রাম রয়েছে। সাধারণত বিবিএ গ্রেজুয়েটরাই এমবিএ ১ বছর প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারে এবং সাধারণ বিষয়ে অনার্স ও ডিগ্রি পাস কোর্স করা বর্তমানে কর্মরত এক্সিকিউটিভরা এমবিএ ২ বছর প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে থাকেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাহিদা ও গতিধারার দিকে লক্ষ্য রেখে ক্রিয়েটিভ স্কুল অব বিজনেস নিম্নোক্ত বিষয়ের দিকে জোড় দিচ্ছে। ১) ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স, ২) একাউন্টিং, ৩) ম্যানেজমেন্ট, ৪) মার্কেটিং ও ৫) সাপ্লাই
চেইন ম্যানেজমেন্ট।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
কম্পিউটার প্রকৌশল এমন এক ফলিতবিদ্যা যাতে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের উপাদানগুলোর সমন্বয় রয়েছে। কম্পিউটার প্রকৌশলীদের ইলেক্ট্রনিক্স প্রকৌশল, সফটওয়্যার ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার একত্রীকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ শিক্ষা ও দক্ষতা আছে। কম্পিউটার প্রকৌশলী কম্পিউটিং এর মাইক্রোপ্রসেসর, পার্সোনাল কম্পিউটার এবং সুপারকম্পিউটার ডিজাইন থেকে শুরু করে সার্কিট ডিজাইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। কম্পিউটার সায়েন্স ফিল্ডটি মোটামুটি অনেক ক্ষেত্রকে নিজের আয়ত্তে করে নিচ্ছে। চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ, নির্মাণ, রাসায়নিক, যানবাহন, ইলেক্ট্রনিক্স, পোশাক শিল্পে, কেনা-বেচা ইত্যাদি ক্ষেত্রে। একজন ভাল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার প্রোগ্রামার হতে পারলে দেশে ও দেশের বাইরে রয়েছে চাকরির ব্যাপক সুযোগ। চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হতে হলে একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে তারা এ বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে যে বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে তা হল গণিতে দক্ষতা, লজিকাল অপারেশন, ইলেক্ট্রনিক্স, পরিশ্রম ও ধৈর্য্য। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য এই বিষয়টির প্রতি ভালবাসা অনেক জরুরি। আপনি যদি প্রোগ্রামিং এ ভাল হন আর প্রোগ্রামিংটাকে সত্যিকারার্থে ভালবাসেন তাহলে আপনার সামনে অসংখ্য চাকুরির অফার আসবে। নিজের শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে সেটা সময় বিনিয়োগ হতে পারে কিংবা অর্থ, এমনকি কষ্ট হলেও সেটা করতে হবে। আর সবসময় সুযোগের সন্ধান করতে হবে যা অন্যকে সাহায্য করবে, সমাজকে বদলে দিবে, পৃথিবীকে এগিয়ে দিবে।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ বেশ সাফল্যের সাথে পাঠদান করে আসছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সিলেবাস শুধু শিক্ষার্থীদের সাহিত্য জ্ঞান বা ব্যক্তিগত উৎকর্ষ বাড়ানো ছাড়াও ইংরেজি ভাষার সঠিক শিক্ষা এবং প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পেশাগত বিভিন্ন পর্যায়ে গৌরবমন্ডিত ও প্রশংসনীয় সাফল্য এনে দিতে সচেষ্ট। বিদেশি ডিগ্রিধারী উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকে সমন্বয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রামের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম ও প্রধান প্রচেষ্টা হল শিক্ষার্থীকে ভাষা ও সাহিত্যে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োগের উপযোগী করতে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ বিশেষ আঙ্গিকে গঠিত। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা যাতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শুধু সার্টিফিকেটমুখী ডিগ্রিধারী না হয়ে সময়োপযোগী, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষার বাস্তব ও শিক্ষা জীবনে প্রাসঙ্গিক ব্যবহারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ফলে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষা সংক্রান্ত যেকোনো জড়তা মুক্ত হয়ে ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ সহজসাধ্য হয়। এলক্ষ্য অর্জনে আলাদা ‘ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠারও কাজ চলছে। দ্বিতীয়ত, সাহিত্যের বিভিন্ন দিক অনুধাবনে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সৃষ্টিশীলতার মূলনীতিতে বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রায়োগিক ভাষাতত্ত¡ এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদান ইত্যাদি বিষয়ও পাঠ্য তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করা হয়।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
একবিংশ শতাব্দী, ন্যানো প্রযুক্তির যুগ। সভ্যতা এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে, প্রতিদিন নিত্য নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। ফলে যুক্ত হয়েছে স্মার্ট ডিভাইস, যা এখন প্রত্যেকের নিত্যসঙ্গী। যন্ত্রের কথা আসলেই প্রথমে চলে আসে যন্ত্রকৌশলের কথা। প্রকৌশল শিক্ষার সবচেয়ে বৃহৎ ও বিস্তৃত ক্ষেত্র হল যন্ত্রকৌশল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। যা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামে পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিজ আর বন্দর নগরী চট্টগ্রামে রয়েছে স্টীলমিল, পাওয়ারপ্ল্যান্ট, ড্রাইডক, অয়েল এন্ড গ্যাস ইন্ডাস্ট্রিজ, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ, শিপ বিল্ডিংসহ আরও অনেক ইন্ডাস্ট্রিজ যা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ যন্ত্রপ্রকৌশলী/মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। সুতরাং বলা যায় যন্ত্র প্রকৌশলীরা এই বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জন্য অমূল্য সম্পদ। আর এ ধারাবাহিকতায় বেসরকারি উদ্যোগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি ডিগ্রি প্রদানের সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চিটাগং (ইউসিটিসি)। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল দেশে রূপান্তরিত করে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ যেন গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজকে এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
শিক্ষার সম্প্রসারণ ও ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে নব্বই দশকের শুরুর দিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি গড়ে ওঠে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের পরিক্রমায় গত কয়েক দশকে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটলেও দক্ষ ও নিপুণ প্রকৌশলীর অভাবে সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি পরিকল্পনামাফিক নগরায়ন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষ ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত প্রকৌশলীর সমাগম ঘটাতে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটের মনোরম ও সুসজ্জিত পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অনুমোদিত ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চিটাগং। যেখানে চট্টগ্রাম নগরীসহ সমগ্র বাংলাদেশের দক্ষ পুর (সিভিল) প্রকৌশলীর অপ্রতুলতার কথা বিবেচনা করে স্থান পেয়েছে পুরকৌশল বিভাগ।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগটি আন্তর্জাতিক ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ ও বাস্তবে এর ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ফলশ্রুতিতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অন্বেষণ এবং এর বাস্তব ব্যবহারিক দিকগুলো সহজে অনুধাবন করতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলতে গবেষণামূলক ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা, একই সাথে তারা যেন বাস্তব জীবনে প্রকৌশলীর স্বাক্ষর রাখতে পারে, এই উদ্দেশ্যে কার্যকরী পাঠ্য তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্বলিত অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমেও অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়ে থাকে।
মাস্টার অব পাবলিক হেলথ বিভাগ
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চিটাগং বা ইউসিটিসিতে আর্টস এন্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস অনুষদ ও পাবলিক হেলথ বিভাগের অধীনে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ প্রোগ্রামের সফল সূচনা হয়। মূলত এমপিএইচ প্রোগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্য উন্নয়নে তথ্য ও গবেষণামূলক যুগোপযুগী বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এতে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠক্রম, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক এবং মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ।
বর্তমান বিশ্বে পাবলিক হেলথ গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়িত। বিশ্বস্বাস্থ্য উন্নয়ন তথা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ও স্বাস্থ্য গবেষণার প্রতিস্পন্দন হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত চিকিৎসকগণ, ডেন্টাল সার্জারী ফিজিওথেরাপী ও নার্সিং কোর্সে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, বিভিন্ন বায়োলজিক্যাল বা বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, অর্থনীতি, পরিসংখ্যানসহ সোস্যাল সায়েন্স অনুষদের কিছু বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী এবং বিভিন্ন দেশি বিদেশি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিওতে কর্মরত কর্মকর্তারা এ প্রোগ্রামে অধ্যায়নরত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারীরা বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারী বা বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অথবা বিভিন্ন দেশি- বিদেশী এনজিওতে, কমিউনিটি ক্লিনিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সেবাদান কর্মসূচীতে, পরিবেশ উন্নয়ন অধিদপ্তরে, পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পে, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং তাদের পুষ্টি ইত্যাদি প্রকল্পে কাজ করে থাকেন, যেখানে রয়েছে শিশুর মারাত্মক সব রোগের টিকা, গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি তথ্য, ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো, বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা ও তথ্যসেবা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ী ও উপক‚লীয় এলাকায় চিকিৎসা ও তথ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন রোগ গবেষণার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মত উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি, যার মূল উদ্দেশ্য হল রোগ নির্ণয়, রোগ গবেষণা, রোগ নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা।
বর্তমানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও আধুনিক, উন্নত ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেসবা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করছে এবং এ স্বাস্থ্যসেবা সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় বিকশিত করার কাজে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা।
এমপিএইচ প্রোগ্রামটি সফলভাবে পরিচালনার জন্য ইউসিটিসি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। ২ বছর মেয়াদী এ প্রোগ্রামে বিষয়বস্তু ও পাঠ্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এমপিএইচ পাঠ্যক্রমের সাথে মিল রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে যা ইউজিসি ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। প্রোগ্রামটি সফলভাবে পরিচালনা এবং তদনুসারে পাঠদানের জন্য ইউসিটিসিতে নিযুক্ত আছেন অভিজ্ঞ ও সফল অধ্যাপকমন্ডলী, দেশে ও বিদেশে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ও সফল চিকিৎসকগণ।
ইউসিটিসিতে এ কোর্সের সূচনা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর জন্য আশির্বাদস্বরূপ।
যেহেতু চট্টগ্রাম জেলা ও প্রতিবেশি জেলাসমূহে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অথবা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মকান্ডে নিযুক্ত বা কর্তব্যরত ব্যক্তিরা চট্টগ্রামে এমপিএইচ প্রোগ্রামে ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন, ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পৌর ও গ্রাম অঞ্চলে, দুর্গম পাহাড়ি ও উপক‚লীয় অঞ্চলে আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতনতা, উন্নতমানের স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবা জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে।