জোটে ৩০ আসন দাবি এলডিপির

চট্টগ্রামের ৫টি : চন্দনাইশ, পটিয়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও মিরসরাই

এম এ হোসাইন

70

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন দলটি বিএনপির কাছে চট্টগ্রামে ৫টিসহ মোট ৩০ আসন দাবি করেছে। সম্প্রতি অলির মহাখালী ডিওএইচএস এর বাসায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ দাবি করা হয়। এসময় ৩০ আসনের একটি তালিকাও বিএনপি মহাসচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত এ ৩০ জন আগামী সংসদ নির্বাচনে জোটপ্রার্থী হিসেবে লড়তে আগ্রহী।
জানা যায়, সম্প্রতি অলির সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুল আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন ও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সারাদেশে একশ আসনে নির্বাচন করার জন্য এলডিপির প্রস্তুতি আছে বলে জানান কর্নেল অলি। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীদের মধ্যে থেকে ৩০ জনের একটি তালিকা তুলে দেন মির্জা ফখরুলের হাতে। যাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ৫ জনের নামও রয়েছে। দাবিকৃত চট্টগ্রামের আসনগুলো হলো পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম (চট্টগ্রাম-১৪, চন্দনাইশ), ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল আলম (চট্টগ্রাম-৭, রাঙ্গুনিয়া), শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. এয়াকুব আলী (চট্টগ্রাম-১২, পটিয়া), যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীন চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৬, বাঁশখালী) ও উপদেষ্টা শফিউল আলম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম-১, মিরসরাই)।
এলডিপি সূত্র মতে, তালিকায় অন্যরা হলেন মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-১), অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোহম্মদ খলিলুর রহমান (জয়পুরহাট-২), প্রফেসর মোহম্মদ আব্দুল্লাহ (চাঁদপুর-৩), আব্দুল গণি (মেহেরপুর-২), সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষীপুর-১), প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. কামালউদ্দিন মোস্তফা (মাগুরা-১), ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া (ব্রাহ্মণ বাড়িয়া-৫), উপদেষ্টা মো. আবু জাফর সিদ্দিকী (ময়মনসিংহ-২), ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নেয়ামুল বশির (চাঁদপুর-৫), ড. জহিরুল হক (ঝালকাঠি-১), সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক (গোপালগঞ্জ-১), সাংগঠনিক সম্পাদক এম. এ বাশার (ময়মনসিংহ-৮), ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হামিদুর রহমান (ময়মনসিংহ-৯), অ্যাডভোকেট চৌধুরী এম এ খাইরুল কবির পাঠান (নেত্রকোণা-৫), যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দীন টিটু (ঢাকা-৫), উপদেষ্টা অধ্যাপিকা কারিমা খাতুন (বগুড়া-১), সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপিকা তপতী রানী কর (ময়মনসিংহ-৬), সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আনোয়ার (ঝালকাঠি-২), অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন (টাঙ্গাইল-৪), যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান (বগুড়া-৩), প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান (মাদারীপুর-২), মোস্তফা কামাল চৌধুরী (নওগাঁ-১) ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান রূপা (সুনামগঞ্জ-৩)।
এ প্রসঙ্গে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি এক সঙ্গেই চালাতে হবে। আমরা তো শুধু আন্দোলনের জন্য জোটবদ্ধ হইনি। আমাদের লক্ষ্য নির্বাচনও। সুতরাং কালক্ষেপণ করলে চলবে না। নির্বাচন নিয়ে এখনই কথা বলতে হবে।
ড. কর্নেল অলি আহমদ (অব.) এর প্রেস সেক্রেটারি সালাউদ্দিন রাজ্জাক বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জোটবন্ধ হয়ে আগামী নির্বাচন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে ৩০ জনের একটি প্রার্থী তালিকা বিএনপি মহাসচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়।