চকরিয়া থেকে আলীকদমে অনুপ্রবেশ করা করোনা রোগী আইসোলেশনে

আলীকদম প্রতিনিধি

10

আলীকদমে প্রদীপ ত্রিপুরা (২৮) নামে করোনা পজিটিভ এক ব্যক্তিসহ তার হবু স্ত্রী চকরিয়া থেকে অনুপ্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ও তার হবু স্ত্রী চকরিয়ার ডুলহাজারার মালুমঘাট এলাকা থেকে কৌশলে পালিয়ে আলীকদম আসে। প্রদীপ ত্রীপুরা মটর সাইকেলযোগে আলীকদম পানবাজার থেকে আলীকদম থানচি সড়কে আট কিলো প্রভাত কারবারি পাড়াতে এবং তার হবু স্ত্রী সোনাতি ত্রিপুরা ঐ মোটরসাইকেলেই থানচিতে গমন করেন। এদিকে খবর পেয়ে বুধবার সকালে প্র্রদীপ ত্রিপুরার নিজ বাড়িসহ উপজেলার প্রভাত কারবারি পাড়ার ১২ পরিবার এবং প্রদীপ ত্রিপুরাকে বহনকারী মটর সাইকেল চালক বাবলু (২৫) এর পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে হোম আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়েদ ইকবাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রকিব উদ্দীন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন, আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক রাসেল মজুমদার প্রমুখ। খবর নিয়ে জানা যায় আক্রান্ত প্রদীপ ত্রিপুরার হবু স্ত্রী সোনাতি ত্রিপুরা চকরিয়ার একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। কয়েকদিন আগে প্রদীপ ত্রিপুরা ঢাকা থেকে চকরিয়াতে তার স্ত্রীর কাছে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বামী-স্ত্রী দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার ল্যাবে প্রেরণ করেন। কিন্তু রিপোর্ট আসার একদিন আগেই ওই দুইজন পালিয়ে আলীকদম চলে আসেন। এদিকে করোনা রোগী আলীকদমে অনুপ্রবেশের খবরে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে করেন আলীকদম উপজেলার সাধারণ জনগণ। চকরিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহবাজ জানান, গত ১৬ মে প্রদীপ ত্রিপুরা ও সোনাতি ত্রিপুরা দুজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দেয়া হয় কিন্তু তারা দুজনই ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা দিয়েছেন এবং তারা হবু স্বামী-স্ত্রী এটাও জানান নি। গত চকরিয়া উপজেলার ১৭ জন করোনা পজিটিভ এর মধ্যে তারা ২ জনও রয়েছে বলে জানান। জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, প্রদীপ ত্রিপুরা চকরিয়া কি করে এসেছে তা আমি জানিনা। তার বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তাছাড়া চকরিয়া উপজেলায় আমার জানামতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে যাতে অন্য উপজেলা থেকে বাইরের কেউ আসতে না পারে। তথাপিও লোকজন প্রধান সড়ক বাইপাস করে বিভিন্নভাবে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ও সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সায়েদ ইকবাল জানান, করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি নিজ গ্রামে অবস্থান করায় পুরো গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যাক্তিকে বহন করা মোটর সাইকেলের ড্রাইভারের পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যাক্তি বর্তমানে পাড়া থেকে দূরে অবস্থিত একটি জুম ঘরে হোম আইসোলেশনে রয়েছে তবে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।