চকরিয়ায় বিএনপির সভাপতিসহ ৭ নেতাকর্মী জেলে

২৪ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

চকরিয়া প্রতিনিধি

8

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়াসহ গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ৭ নেতা-কর্মীকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত। গত বুধবার রাতে পুলিশের দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত মামলার শুনানী শেষে দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সদ্য বিলুপ্ত খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে ডুলাহাজারাস্থ নিজ বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক চলাকালে গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম ফরিদুল আলম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস ছালাম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহবায়ক মো. সোহেল, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আজিম ও ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হেলাল উদ্দিন। এ ঘটনায় ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর বাদি হয়ে গ্রেপ্তারকৃত সাতজনসহ ২৪ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দিন ফরায়েজি, উপজেলা যুবদলের আহব্বায়ক ইব্রাহিম খলিল কাঁকন, যুগ্ম আহব্বায়ক আনিসুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের আহব্বায়ক জয়নাল আবেদীন ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজও রয়েছেন। মামলায় গত বুধবার রাতে ডুলাহাজারা বাজারে মিছিল ও গাড়ি ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমানের বাড়িতে বসে তফসীল ঘোষণা পরবর্তী নাশকতা সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বাদি চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর বলেন, গত বুধবার রাত সোয় আটটার দিকে ‘বিএনপির ৩৫-৪০ জন নেতা-কর্মী চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডুলাহাজারা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পর কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পরপরই নাশকতার পরিকল্পনা করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতির বাসায় বৈঠকে বসেন। এ সময় ওই বৈঠকে হানা দিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সাতজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিমতে অন্যদের আসামি করা হয় বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার বলেন, সদ্য বিলুপ্ত খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে গত বুধবার রাতে ডুলাহাজারস্থ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়ার বাড়িতে বৈঠক করছিলেন নেতাকর্মীরা। হঠাৎ করে পুলিশ হার্ড লাইনে গিয়ে ওই বৈঠকে হানা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাকে গায়েবী মামলা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম হায়দার আরও বলেন, সরকার আগামীতে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করতে পুলিশকে ব্যবহার করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গায়েবী মামলার আসামি করেছে। যাতে তারা ঘরছাড়া হয়ে সরকার খালি মাঠে গোল দিতে পারে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের ফলে অন্যান্য নেতাকর্মীদের মাঝেও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।