চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চকরিয়া প্রতিনিধি

54

চকরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে কুলসুমা জান্নাত রিমা (২১) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মাইজঘোনা উত্তরপাড়া গ্রামে নিহতের স্বামীর বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা। পুলিশ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় স্বামীর ঘরের বীমের সাথে গলায় উড়না পেঁচানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় কুলসুমার লাশ উদ্ধার করেছে।
নিহত কুলসুমার মা নুরুন্নাহারের দাবি, স্বামীর পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় তার মেয়েকে শনিবার ভোরে হত্যা করা হয়েছে।চকরিয়া থানার এসআই মাইনুদ্দিন জানিয়েছে, কুলসুমাকে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শাওন কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা যায়নি।
চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের মুছার পাড়া গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের মেয়ে কুলসুমা জান্নাত রীমার সাথে শাহারবিল ইউনিয়নের উত্তর মাইজঘোনা গ্রামের বশির ড্রাইভারের ছেলে শাওন কবিরের বিয়ে হয় তিন বছর আগে।
নুরুন্নাহার জানান, তার জামাতা ড্রাইভার শাওন কবির চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করা এক মেয়ের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে আমার মেয়েকে শাওন কবির প্রায় সময় নির্যাতন করতো। নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে অনেক বিচারও হয়েছে। স্বামীর নির্যাতনে কিছুদিন আগে মেয়েকে আমাদের কাছে (বাবা বাড়ি) নিয়ে আসি। পরে উভয় পরিবারের সমঝোতায় এক সাপ্তাহ আগে কুলসুমাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে রাত ১১টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে কি যেন বলতে চেয়েছিল, কিন্তু মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ায় আর কথা বলতে পারেনি। সকালে মেয়ের স্বমীর বাড়ি থেকে ফোন করে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর দেয়।এলাকাবাসী জানান, কুলসুমাকে হত্যার পর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে দেয়া হয়েছে। শাওন কবির হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। এ ঘটনার আরও আগে স্বামীর বাড়ির লোকজন কুলসুমা জান্নাত রিমার গর্ভের সন্তানও নষ্ট করে দিয়েছে।এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘরে গলায় ওড়না পেঁচানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। নীচে একটি টি টেবিল ও তার উপর প্লাস্টিকের মোড়া ছিল। শাওন কবিরসহ পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে। তাই কারও সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকাল ৮টায় লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।