দুদকের হটলাইনে অভিযোগ

ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ কাস্টমস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

7

হটলাইন নম্বরে অভিযোগ পাওয়ার পর নগরীর কাস্টম হাউসে ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান পরিচালনার পর দুদকের একটি দল নাজিম উদ্দিন আহমেদ নামে ওই রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কাস্টমসে রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) পদে কর্মরত। এসময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তার কক্ষে থাকা স্টিলের আলমিরা খুলে নগদ ছয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়।
দুদক জানায়, সমুদ্রগামী জাহাজের ছাড়পত্র প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন নম্বর- ১০৬) অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এরপরই দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ও মো. হুমায়ুন কবীর।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম জানান, ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মহাপরিচালকের নির্দেশে কাষ্টম হাউসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুদকের আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জাহাজ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে আসা সমুদ্রগামী জাহাজ বন্দর ত্যাগের আগে তিনটি সংস্থা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এই তিনটি সংস্থা হল- নৌবাণিজ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস। সমুদ্রগামী জাহাজের সব মাশুল পরিশোধ করা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা করার পর এই ছাড়পত্র দেয়া হয়। ছাড়পত্র পেতে দেরি হলে জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে পারে না। এতে বাড়তি খরচ হয় জাহাজ মালিকদের।
জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, সমিতির কার্যালয়ে শিপিং এজেন্টরা এ নিয়ে কিছুদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছিল।