ঘরের অতিথি পরিচ্ছন্নতার পুরস্কার ও ঘুষবাণিজ্য

মছিউদ্দৌলা জাহাঙ্গীর

34

মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি জাতির পিতা নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) অতিথি ছাড়া নাকি কখনো আহার করতেন না! অন্তত দুই জন অতিথি প্রতি বেলায় তাঁর সাথে থাকতে হতো, প্রয়োজনে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে আসতেন। মহান এ নবী যিনি ত্যাগের পরীক্ষায় ছিলেন অদ্বিতীয়; তিনিই অতিথি সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। পরবর্তীতে মানুষ অতিথিকে অনেক সম্মানের চোখে দেখেছে এমন অসংখ্য নজির পৃথিবীতে রয়েছে। আরব বেদুইনরা তো তরবারির এক কোপে শত্রুর মস্তক দ্বিখন্ডিত করে ফেলত সেই হিংস্র বেদুইনরা পর্যন্ত মেহমান হয়ে গেলে সে যত বড় শত্রুই হোক তার জানমাল রক্ষা সেই বেদুইনের কাছে নিজের জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যেত। অতিথি সেবায় আমাদের নবী করিমের (স.) উদাহরণ তো এক বিরল দৃষ্টান্ত, যা তৎকালীন সমাজে এক বড় প্রভাব বিস্তার করেছিল। ইবনে বতুতাদের মতো পর্যটকগণ সেকালে বিশাল ভূখন্ড পর্যটন করতে সক্ষম হয়েছিলেন একমাত্র মানুষের অতিথি বৎসায়ণ মনোভাবের ফলে। ভারতবর্ষে তো অতিথিকে দেবতা সম্বোধন করা হয়। তাই তো বলা হয় ‘অতিথি দেবাভব’। অতিথি সেবায় এস্কিমোরা মনে হয় সব থেকে এগিয়ে, তারা নাকি নিজের কুমারী কন্যাকে অতিথির সাথে রাত্রিযাপন করতে দিয়ে দেয়! তবে বলে রাখি এটি ঠিক না, সবকিছুর সীমা থাকা উচিৎ। এস্কিমোদের এ প্রথাকে চরম বর্বরতা ছাড়া কিছু বলা যায় না। তাহলে আমাদের নেতাদের মেহমানদারীকে কি বলা যায়? মাশাল্লাহ্ প্রতি বেলায় নাকি মেজবান, প্রতিদিন গরু জবাই- এলাহী কান্ড! প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আজ পর্যন্ত ভারতীয় সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনা, ধর্ম-কর্ম সবখানে অতিথির এক বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ইসলাম আর মুসলমানদের কথা কি আর বলবো, শুরুই তো করেছি কিতাবি তিন জাতিকে দিয়ে। সকল সেমেটিক ধর্মই অতিথি বৎসল, তাছাড়া কোরান, পুরাণ, বেদ, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটকসহ সব ধর্মগ্রন্থে মেহমানের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। নিজে না খেয়ে মেহমানকে খাওয়ানো, নিজে না শুয়ে মেহমানকে শুয়ানো এসব তো প্রায় প্রত্যেক জাতিরই প্রাচীন ঐতিহ্য। এখনও এ প্রথা বিদ্যমান তাই তো আমরা দেখি বিয়ে-শাদী, খানা-মেজবানী, ইত্যাদিতে মেজমান কখনো আগে খান না। সন্তুষ্ট চিত্তে মেহমানরা খাওয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে পরে মেজমান তা নিজে খান। এমনও দেখা যায় কিছু না থাকলে মেজমান খান না, তারপরও হাসিমুখে মেহমানদের বিদায় দেন। ছোটকালে দেখেছি একটি ঘরের মেহমান তিনি পুরা বাড়ির মেহমান এমন কি পুরা পাড়ারই মেহমান, মেহমানের জন্যে পাড়ার অন্য ঘর থেকে পর্যন্ত খাবার আসত! এক ঘরে জায়গা না হলে পাড়ার অন্য ঘরে মেহমানকে রাখা হতো। অথচ কি আশ্চর্য আজ বিশাল ফ্ল্যাটের কোন এক কোণে সে মেহমানের গাড়ির একটু জায়গা হয় না! ফ্ল্যাট হতে দূরে রাস্তার কোন এক কোণে গাড়ি নীরবে নিভৃতে কাঁদে। নিজে না খেয়ে অতিথি খাওয়ানো নিজে না থেকে অতিথিকে রাখা যে দেশের রেওয়াজ, আজ সেখানে বিশাল ফ্ল্যাটের নীচে মেহমানের গাড়িটির স্থান হয় না। অথচ অতিথির কুকুরকে পর্যন্ত সম্মান দেখানোর রেওয়াজ আছে। বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে, অতিথির গাড়ি সড়কে হাসে অর্থাৎ উপহাস করে।
সম্প্রতি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, গ্রাম পরিষ্কার রাখলে যুবকরা সুন্দরী বধূ পাবে। মাশাল্লাহ্ একেবারে এস্কিমোদের সিস্টেম, তারা অতিথির সাথে নিজের কন্যাকে দেয় আর হরিয়ানা পরিচ্ছন্নতার জন্যে দেবে অন্যের কন্যাকে। শুধু রীতির ফারাক, তবে হরিয়ানারটি সমর্থনযোগ্য কারণ এটিতে রয়েছে বৈধতা। মহানবীর (স.) সুস্পষ্ট হাদিস; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। হরিয়ানায় তা হয়েছে বিয়ের অঙ্গ মন্দ নয় অন্তত গ্রাম পরিষ্কার থাকবে ফলে পরিবেশ হবে বিশুদ্ধ। তবে যে কাগজে হরিয়ানার সংবাদটি দেখলাম তার একই পৃষ্ঠায় অন্য আরেকটি খবর দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন- বাবারে বাবা কি পরিকল্পনা! মহাপরিকল্পনা, হরিয়ানার প্রজেক্টটিকে মাঠে মারার বুদ্ধি। আশ্চর্য পাকিস্তানের কাজই খালি ভারতের পেছনে লাগা, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনি মরবেন তো মরবেন, তা কিছু আগে বা পরে আপনি কাজটি সারতে পারলেন না? করলেন তো করলেন একেবারের ভারতের একটি শুভকাজের সময় করলেন? আরে বেল পড়বি তো পড়বি একেবারের ন্যাড়ার মাথায় গিয়ে পড়বি, একটু এদিক সেদিক পড়তে পারলি না? আশ্চর্য, ভারতে এখন বউয়ের লোভে কোন যুবক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আর যোগ দেবে? ভারতীয় মন্ত্রী কি চমৎকার রেটিং করেছেন, থ্রি স্টার, ফাইভ স্টার, সেভেন স্টার মানের গ্রাম, মানানুসারে যুবকরা বধূ পাবে। সব ভেস্তে দেওয়ার জন্যে পাকিস্তানি মন্ত্রীর কারসাজি। অবস্থাদৃষ্টে মনে তো হচ্ছে তিনি ভারতীয় যুবকদের বুঝাতে চেয়েছেন; খবরদার বিয়ের চিন্তা করবি না কখনো, তাহলে আমার অবস্থায় পড়তে হবে, দরকার হয় এস্কিমো সিস্টেমে কাজ চালা বিয়ে কোনদিন করিস না। এখন ভারতে বিয়ে ছাড়া কার মেয়েটা কে এস্কিমোদের মতো যুবকদের হাতে তুলে দেবে? দেখুন তো পাকিস্তানি মন্ত্রীর পুরা ভারতীয় প্রকল্পটিকে মার দেওয়ার বুদ্ধি না, এমন করলে কি বলা যায় পাকিস্তানকে? তথাপি কামনা করি এসব চিন্তা যেন ভারতীয় যুবকদের মাথায় না আসে। তারা গ্রামগুলো পরিষ্কার করে থ্রি স্টার, ফাইভ স্টার ও সেভেন স্টার মানের মেয়েদের বিয়ে করুক আর পরিবেশ রক্ষা করুক। অনুরূপ আরো প্রেষণামূলক কর্মসূচি বিশ্বের দেশে দেশে গ্রহণ করা হোক যুবকরা যাতে উৎসাহ পায় এবং পরিবেশ রক্ষায় মেতে উঠে। অবশ্য পাকিস্তানি মন্ত্রীর মৃত্যুকে নিয়ে আমি এভাবে আলোচনা করতে চাইনি তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনেক সময় এমন হয়ে যায় অনেক দুঃখের ঘটনা রসের ঘটনায় পরিণত হয়। এখন ছাত্র মারা গেল, মাস্টার দুঃখ করে বলছেন, ভাগ্যটা বড় খারাপ, যা-ও অনেক কষ্টে একটি টিউশনি যোগাড় করলাম ছাত্রটি মারা যাওয়ায় সেটিও চলে গেল, কি করবো এখন ভেবে পাচ্ছিনা। ছাত্রের মা-বাবা মরছেন পুত্র শোকে আর তিনি মরছেন টিউশনীর শোকে। ফলে পরিস্থিতি গুণে দুঃখের ঘটনাও হাসিতে রূপ নেয়। যাক, সিন্ধুর মন্ত্রীর জন্যে দুঃখ প্রকাশ করছি, হরিয়ানার মন্ত্রীর সাফল্য কামনা করছি।
পুরস্কার হিসেবে নারী লাভ এটি নতুন কোন বিষয় নয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বিজয়ী জাতির বীররা বিজিতদের নারীদের উপঢৌকন হিসেবে পেয়েছে। আর ঘুষ হিসেবে নারীর প্রস্তাবনা এটিও অনেক প্রাচীন সংস্কৃতি। বিখ্যাত গ্রীক মহাকবি ‘হোমার’ তাঁর মহাকাব্য ইলিয়াডে লিখেছেন; সাগরদেবী থেটিসের বিয়েতে মানব-দানব সকলকে দাওয়াত করা হলো শুধুমাত্র কলহের দেবী এরিসকে ছাড়া। এরিস ক্ষুব্ধ হলেন, এক স্থানে দেবী হেরা, এথেনা ও ভেনাস বসে খোশগল্পে মশগুল। এরিস ‘ফর দ্য বিউটি’ বা সুন্দরীর জন্যে- লিখা একটি সোনার আপেল সেখানে নিক্ষেপ করলেন, ব্যস শুরু হলো তিন দেবীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া! কারণ তিনজনেই তাঁরা নিজেদেরকে পরমা সুন্দরী মনে করেন। শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার দেয়া হলো প্যারিসকে তাতে শুরু হলো ঘুষের প্রলোভন। আসতে লাগলো নানান লোভনীয় প্রস্তাব, হেরা বললেন প্যারিসকে রাজা বানিয়ে দিবেন, এথেনা বিদ্যার জাহাজ বানিয়ে দিবেন আর ভেনাস বললেন তাকে পৃথিবীর সেরা সুন্দরী রমণীকে দেবেন। যথা আজ্ঞা তথা যজ্ঞ, রায় চলে গেল ভেনাসের পক্ষে, ফলাফল ট্রয় নগরীর পতন। ধৈর্যের ফল মিঠা, ঘুষের ফল তিতা তাই তা থেকে মুক্ত থাকতে পারাটা মঙ্গল কিন্তু দুর্নীতির জঙ্গল এখন এতই নিবিড় হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে
আসাটাই মুশকিল। আশ্চর্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পদে পদে ঘুষবাণিজ্য, প্রচলিত আছে কোর্টবিল্ডিং- এর দেয়াল পর্যন্ত ঘুষ খায়। এখন বলা হবে শিক্ষা অধিদপ্তরের ইট পর্যন্ত ঘুষ খায়, থানা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত কিছু আর বাদ নাই। আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয় ঘুষকে ‘স্পীড মানি’ বলেছেন এখন কি বলবো, স্পীড মানির স্পীডে তো সবকিছু তো এখন বিধ্বংস হওয়ার যোগাড়। বলা হয় কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে আগে তার সভ্যতাকে শেষ করো, এখন সভ্যতার মূল উপাদানটা তো হলো শিক্ষা। ঘুষ হলো সবকিছুকে বিনষ্ট করে ফেলার মতো একটি উপাদান, এখন এ বিধ্বংসী উপাদানটি যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান থাকে তবে শিক্ষা ব্যবস্থা কি আর টিকে? এখন শিক্ষা না থাকলে সভ্যতা কি আর টিকে, সভ্যতা না থাকলে জাতি কি আর থাকে? ঘুষ এখন আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে অনুপ্রবেশ করেছে সেখান থেকে তাকে বের করে আনাটা বড় দুরূহ কাজ।
আচ্ছা হরিয়ানার মন্ত্রী তাঁর পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন করতে যেমন প্রেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আমরা আমাদের মনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে কি তেমন কোন প্রেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি না? ঘুষ-দুর্নীতি তো আমাদের মনকে একেবারে কলুষিত করে ফেলেছে, বধূ প্রলোভন কি এখানে কোন কার্যকরী ফল দেবে? আসলে যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। ফলে কোন প্রেষণাতেই আমাদের কাজ হবে না। আগে নিজেকে পরিশুদ্ধ হতে হবে, নিজে ঠিক তো জগত ঠিক। সেজন্যে আগে আমাদের সরকারকে পরিশুদ্ধ হতে হবে কারণ আমাদের সরকারের নীতিই সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। সরকার ক্ষণে ক্ষণে নতুন নতুন আইন করে আর আমলাদের ঘুষের রাস্তা প্রসারিত হয়। তেমন একটি আইন হলো ভ্যাট তথা মূল্য সংযোজন কর- ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যে যা গলার ফাঁস। দ্রব্যের বিক্রয় মূল্যের উপর শতকরা পনের ভাগ কর হিসাব করা। আশ্চর্য মানুষের দশ টাকা লাভ হয় না সে পনের টাকা কর কোত্থেকে দেবে? বিশ্বে এমন কোন ছোট ব্যবসা, ক্ষুদ্রশিল্প বা কুঠির শিল্পের কথা আমার জানা নেই যেখানে দশ পার্সেন্টের বেশি কেউ লাভ করতে পারে। যদি কেউ করে থাকে তবে তার বিক্রির পরিমাণ হবে নিশ্চয় অনেক কম। এখন কেউ যদি ত্রিশ পার্সেন্ট লাভে মাত্র দুহাজার টাকা বিক্রি করে তার দৈনিক খরচ পোষাবে? ভ্যাট কর্মকর্তারা এসেই বলেন বিক্রির উপর পনের পার্সেন্ট ভ্যাট দিতে হবে, এমন হলে তো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা টিকতেই পারবে না। বলা যায়, কেন, ভ্যাট তো দেবে ক্রেতারা ফলে ভ্যাট যোগ করে মূল্য আদায় করা হোক। সম্ভব না, কারণ ভ্যাট আদায়কারীদের সাথে অধিকাংশরাই একটি সিস্টেমে চলে আসে ফলে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারে। এমন অবস্থায় দু-চার জন সৎ থেকে তো টিকতে পারবে না। পনের পার্সেন্ট ভ্যাট একটি অনেক বড় ব্যাপার, গরীব একটি দেশে এত বেশী ভ্যাট হওয়া উচিত না। প্রকৃতপক্ষে সকলে যদি সঠিক ভ্যাট আদায় করে শুধুমাত্র এক পার্সেন্ট ভ্যাট নির্ধারণ করেও সরকার অনেক বেশি লাভবান হতে পারবে। এখন তো পনের পার্সেন্ট ভ্যাট নির্ধারণ করে সরকারের বাজেট ঘাটতি আমলাদের পকেট ভর্তি। ভ্যাট একটি ব্যাপক বিষয়, পরবর্তী কোন প্রবন্ধে এটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো। শুধু নিবন্ধের প্রয়োজনে উপমা স্বরূপ ভ্যাটের অবতারণা করেছি। ঘুষ দেয়া-নেয়া অতি গর্হিত কাজ ও পাপ, সরকারের নীতির কারণে মানুষ এ পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তারা ঘুষ নেওয়ার সুযোগ পায় জনগণ দিতে বাধ্য হয়। এখন টেবিলে গুড় রেখে পিঁপড়ে মারলে কোন লাভ হবে না, পিঁপড়ে বন্ধ করতে চাইলে আগে গুড় সরিয়ে নিতে হবে। ঠিক তেমনি ত্রুটিযুক্ত আইন করে ঘুষ বন্ধ করতে চাইলে ঘুষ বন্ধ হবে না, আইনকে মানুষের গ্রহণযোগ্য করে প্রণয়ন করতে হবে। কোন আইন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারলে দুর্নীতি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভ্যাট, ট্যাক্স, লাইসেন্সসহ যাবতীয় অর্থসংশ্লিষ্ট আইন জনগণের জন্যে সহনশীল করে প্রণয়ন করতে হবে, তবেই ঘুষের দৌরাত্ম্য কমে আসতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সাথে মিল রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। পূর্বে আমার এক লিখায় বলেছিলাম বনি ইস্রাঈলের দুই গোত্রের সীমানা দেয়ালে গুড় লাগিয়ে শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ লাগিয়েছে। আজ বলেছি দেবী এরিস সোনার আপেল ছুঁড়ে দিয়ে ট্রয় নগরীর পতন ঘটিয়েছে। আমাদের আইনগুলো থেকে সেই গুড় ও সোনার আপেল সরিয়ে নিতে হবে, তবেই অতিথিরা শান্তি পাবেন, পরিবেশ সুন্দর হবে এবং ঘুষ দূর হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক