স্কুলছাত্র আদনান হত্যা

গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ ‘খুনির’ আদালতে জবানবন্দি

52

নগরীর ব্যস্ততম জামালখান সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে ধাওয়া দিয়ে ছুরিকাঘাতে কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান ইশফার হত্যাকাÐে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ ‘খুনি’ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি তাদের দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেছেন মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমান। এরপর তাদেরকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদনান হত্যাকাÐের দু’দিন পর গত ১৮ জানুয়ারি তার বাবা প্রকৌশলী আখতারুল আজম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমদাদ হোসেন চৌধুরী পূর্বদেশকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় শুক্রবার বিকালের পালায় তাদেরকে আদালতে ষ পৃষ্ঠা ১১, কলাম ৪.
ষ প্রথম পৃষ্ঠার পর
হাজির করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা আদনান হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে।’
জবানবন্দি প্রদানকারী আসামিরা হলেন নগরীর চন্দনপুরার পশ্চিম গলির মো. ওসমানের ছেলে সাব্বির খান(১৮), একই এলাকার সাত্তার মঞ্জিলের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাঈদ(১৮), ওই এলাকার লায়লা ভবনের বাসিন্দা মো. মোক্তারের ছেলে এখলাছ উদ্দিন আরমান(১৮) চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে মসজিদের পাশের গলির ফাতেমা ম্যানসনের ভাড়াটিয়া ও লোহাগাড়ার রাজঘাট বদিউল আলমের বাড়ির বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মঈন খাঁন(১৭) এবং বাদুরতলা মাজার গেটের পশ্চিম পাশের গলির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের ছেলে মুনতাছির মোস্তফা(১৮)। হত্যাকাÐের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে প্রথমোক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় ফটিকছড়ির সমিতিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহŸায়কের বাড়ি থেকে। আসামি মঈনের সাথে থাকা ব্যাগে আদনান হত্যায় ব্যবহৃত ছোরাটিও জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর তারা শহর ছেড়ে সেখানে আত্মগোপন করেছিল। ওই চারজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বাদুরতলা মাজার গেট এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোস্তফাকে। এর আগে ঘটনাস্থলের আশপাশের ভবনে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসিটিভি) ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখে ওই পাঁচজনকে পুলিশ শনাক্ত করে। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে মঈন, সাব্বির ও মোস্তফা হাজেরা-তজু কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আর সাঈদ ইসলামিয়া কলেজ থেকে গতবছর এইএসসি পাস এবং আরমান হলি ফ্লাওয়ার স্কুলের এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
পুলিশ বলছে, গত ১৬ জানুয়ারি ঘটনার দিন দুপুরে গণি বেকারি মোড়ে আদনানকে ধাওয়া দেয় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা। পলায়নরত আদনান আইডিয়াল স্কুলের সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিক্শার সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কে ছিটকে পড়লে নাগাল পেয়ে যায় ধাওয়াকারীরা। এসময় ধাওয়াকারীদের মধ্যে সাব্বির ভীতসন্ত্রস্ত আদনানের কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আরমান ও সাঈদ তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়কভাবে পেটাতে থাকে। আর মুনতাসির মোস্তফা টেনেহিঁচড়ে আদনানকে তোলার সময় তার পড়নে থাকা টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। ঠিক তখনই মঈন তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আদনানের শরীরে উপর্যূপরি আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে আহত হয়েও আদনান হামলাকারীদের কবল থেকে এক পর্যায়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে জামালখান খাস্তগীর স্কুলের দিকে দৌড়াতে থাকে। রক্তাক্ত ছোরা হাতে মঈন তখনও তাকে ধাওয়া করে। ততক্ষণে আদনানের শরীরে ছুরিকাঘাতের ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। খাস্তগীর স্কুলের গেট পেরিয়েই এক পর্যায়ে সড়কের ওপর ঢলে পড়ে আদনান। সেখানেও তার শরীরের ক্ষত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। কিছুক্ষণ পর আশপাশ থেকে কয়েকজন এসে সড়কের ওপর মৃত্যু-যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা আদনানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ততক্ষণে নিথর হয়ে পড়ে আদনানের দেহ। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।