গ্রামে বাস্তবায়নের পথে বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প উদ্যোগ প্রশংসনীয়

18

এ ভরা বর্ষা মৌসুমে সাগর-নদী, খাল-বিল, নালা-নর্দমা সবখানেই থৈ থৈ পানি, আর কদিন পর পুকুর দিঘিগুলো বৃষ্টির পানিতে ভরে উঠবে। গ্রামের বিস্তৃর্ন মাঠ দেখলে মনে হবে এখানে পানির অভাব নেই। কথাটা মিথ্যে নয়; পানি আছে, কিন্তু আগের সেই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি আর নেই। গাঁয়ের মা’রা অতীতে কলসি পুরিয়ে পুকুর-দিঘির পানি এনে পারিবারের তৃঞ্চা মেঠাতেন। এখন সেই পুকুর-দিঘি যেমন ভরাট হতে চলছে, তেমনি নানা প্রকার বর্জ্যের কারেণ দূষণের কবলে পড়ছে বাকি যা আছে তা। এছাড়া বন্যার কারণে নিচু এলাকায় সাগরের লবনাক্ত পানির প্রবেশ এবং গ্রামে যত্রতত্র গভীর নলকুপ স্থাপনের কারণে মাটির নিচের লেয়ার কমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট এখন গ্রামেও। এ অবস্থায় স্থানীয সরকাল মন্ত্রণালয়ের গৃহীত প্রকল্পে গ্রামে বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন ও বিতরনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা যথার্থ। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রশংসার দাবিদার। শুক্রবার দৈনিক পুর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ উপজেলার সদর পৌরসভায় প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পৌরসভায় ইতোমধ্যে নলকূপ বসানো, পাম্প হাউজ নির্মাণ ও পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। করোনা সংক্রমণ কমে আসলেই প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। স›দ্বীপ পৌরসভায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটি উদ্বোধন হলে স›দ্বীপ পৌরসভার ৫০০ পরিবার প্রথমধাপে বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসবে। একইসাথে গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে সরকারের যে উদ্যোগ সেটিও আলোর মুখ দেখবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর সূত্র উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে আরো চারটি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প হবে। ধাপে ধাপে চট্টগ্রামের সব পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে এমন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।’ তবে প্রথম উপজেলা হিসেবে বিশুদ্ধ পানি পেতে যাচ্ছে স›দ্বীপ। এ প্রকল্পের আওতায় .৬৫-.৯ কিউসেক ক্যাপাসিটির তিনটি পাম্প হাউজ বসানো হয়েছে। সাড়ে ১২’শ হর্স পাওয়ারের তিনটি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রায় ২৬ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স›দ্বীপ পৌরবাসী বেশ উপকৃত হবেন। সবসময় এখানে লবণাক্ত পানি পাওয়া যায়। বন্যা ও জলোচ্ছ¡াস হলে নলকূপগুলো নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বাড়িতে গভীর নলকূপ না থাকায় যে সেলো নলকূপগুলো আছে, সেখানে আর্সেনিক থাকে। এ পানি সরবরাহ শুরু হলে মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাবে। পানিবাহিত যেসব রোগ আছে সেখান থেকেও রক্ষা পাবে।
স›দ্বীপের এ প্রকল্পটি ছাড়াও বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও মিরসরাইয়ে আরো চারটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। স›দ্বীপের চেয়ে এসব উপজেলায় আরো বড় আকারের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাঁশখালীতে উৎপাদক নলকূপ বসিয়ে, মিরসরাইয়ে মহামায়া লেকের পানি, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে সাঙ্গু নদীর পানি বিশুদ্ধ করে পৌরসভায় পানি সরবরাহ করা হবে।
২০২০-২১ অর্থ বছরে এ চার পৌরসভার প্রকল্পগুলো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নাজিরহাট ও বারইয়ারহাট পৌরসভার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো দুটি বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প হাতে নেয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। আমরা জানি, বর্তমান সরকার ধারাবাহিক তৃতীয় মেয়াদে দেশ শাসন করছে। এবার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতির একটি ছিল ‘গ্রাম হবে শহর’। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় দেশের প্রায় উপজেলা সদর বা ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগতভাবে গড়ে উঠা জনপদকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এরসাথে এ এলাকাগুলোর নাগরিক সুবিধা ও সেবা কার্যক্রমও বাড়ানো হচ্ছে। আমরা মনে করি, পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন ও বিতরণের এ উদ্যোগ ও প্রকল্প সরকারের গ্রাম হবে শহর-কর্মসূচিকে আরো একধাপ এগিয়ে নেবে। আমরা আশা করি ক্রমান্বয়ে দেশের সবগুলো পৌরসভাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিতকরণে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।