গ্রামে করোনা সংক্রান্ত নজরদারী বাড়ানো জরুরি

15

শহরে করোনা ঝুঁকি তো আছেই। বর্তমানে লকডাউন শিথিল করার পর হু হু করে গ্রামে বাড়চ্ছে করোনা রোগী। চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তের হারছিল ২১ শতাংশ যা বেড়ে বর্তমানে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের পর গ্রামে করোনা রোগী বেড়ে যাচ্ছে তা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে। বিগত শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৫টি উপজেলায় ১ হাজার ৯৫১ জন করোনা রোগীর শনাক্তের খবর আমরা জানি। ইতোপূর্বে মারাও গেছে ৩১ জন কোভিড-১৯ রোগী। জেলার আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, রাউজান, সীতাকুÐ, চন্দনাইশ, হাটহাজারী, পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রামের সিভিলসার্জন। এ নয়টি উপজেলায় করোনা রোগীর সংক্রমন দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে হাটহাজারী, পটিয়া, সীতাকুÐ’র অবস্থা খুবই নাজুক। বোয়ালখালী ও বাঁশখালী এদের পিচু ধাওয়া করে উঠে যাচ্ছে অধিক সংখ্যক সংক্রামক এলাকার তালিকায়। বাঁশখালীতে ১২১ জন রোগী সনাক্ত হলেও এর মধ্যে ৬০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বাড়িতে। উপজেলা হাসপাতালে আইসোলেশনে আছে মাত্র ৫ জন রোগী।
গ্রামে যে হারে মানুষ করোনাকে পাত্তা দিচ্ছে না তাতে মনে হচ্ছে মহাবিপদ ডেকে আনছে গ্রামের মানুষ। গ্রামের দোকান পাট, বাজার, রাস্তা-ঘাটে লোকে লোকারণ্য। কেউ স্বাস্থ্য বিধি এবং সামাজিক-শারীরিক দূরত্বের ধার ধারছে না। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নমুনা পরীক্ষার মুখো মুখিও হতে চায় না। যার ফলে করোনা সংক্রমণ গ্রামে দ্রæত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর মানুষ যে ভাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হতে দেখা যাচ্ছে গ্রামে তার ছিটেফোটাও দেখা যায় না। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন করে লকআউন দেয়া হচ্ছে। লকডাউন মানতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা সামাজিক দূরত্বের কালচার অনেক খানি রপ্ত করে ফেলেছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের মধ্যে করোনা ভীতির লেশমাত্র চোখে পড়ে না। মাক্স ব্যবহারের বালাইও তেমন চোখে পড়ে না। মসজিদে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে। জানাজায় একই অবস্থা গ্রামে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রিক প্রশাসন সতর্ক ও তৎপর না হলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ ব্যাপক হারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে এতে সন্দেহ নেই।
উপজেলা প্রশাসন, পৌর সভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ব্যাপক তৎপরতা ও নজরদারীই গ্রামের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের কঠোর পরিশ্রম করে জনসচেতনা বৃদ্ধিতে ভ‚মিকা রাখতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আপাতত তৎপরতা খুব একটা গ্রামে কার্যকর মনে হয় না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা এবং আইন মানতে বাধ্য করা ছাড়া গ্রামের মানুষকে করোনার ভয়াবহ ছোঁবল থেকে রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা আশা করবো জেলা প্রশাসনের উচিৎ মহানগরীর চেয়ে গ্রামের উপজেলা গুলোতে কোভিড-১৯ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আর তা করলে গ্রামের উদাসীন মানুষগুলোকে রক্ষা করা কিছুটা সম্ভব।