গ্রামীণ নারীদের জীবনমান পরিবর্তন হচ্ছে

33

গ্রামীণ জীবনে এখন নারীর ক্ষমতায়নের রূপান্তর চলছে। অর্থাৎ গ্রামীণ নারীরাও এখন জীবন উন্নয়নের রূপান্তরে সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
নারীদের জীবনমান পরিবর্তন হচ্ছে। আর তাতে নারীরাই সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। আবার নারীরাই নারীদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার হয়ে উঠেছেন। গত বছর নারীর সমতায়নে জোর দেয়া হয়েছিল। এসেছিল মানবাধিকারের কথাও। তবে সময় এখন নারীর জীবন রূপান্তরের। এ বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারা বিশ্বে নারীরা একটি প্রধান উপজীব্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের এক এক দেশে নারী দিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। রসধমব কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা মুখ্য হয়। আবার কোথাও নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
সারা বিশ্ব এখন নারী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরব। শুধু তাই নয়, নারীদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি অর্জনে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে উন্নয়নকে টেকসই করতে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।
কৃষিক্ষেত্র ও গৃহস্থালি থেকে শুরু করে সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ এখন অনেক বেড়েছে। নারীর এ অবদানকে পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। নারীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নারীর সক্ষমতা বাড়ানো, স্বাবলম্বী করা এবং নারীর নিজের ভাগ্য নিজেরই গড়ার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় নারীদের যুক্ত করতে হবে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সব প্রতিষ্ঠানকে আরও সম্পৃক্ত হয়ে সহযোগী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিতে আইনের ইতিবাচক প্রয়োগ হচ্ছে। শুধু আইন দিয়ে নয়, মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনে আরও সচেষ্ট হতে হবে। গ্রাম্য সমাজে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক আবহে নারীর অবদান এখন দৃশ্যমান। তবে সামগ্রিক উন্নয়নে আরও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। অতীতে পারিবারিক কাজে পুরুষের নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকা ছিল। বর্তমানে সেসব কাজেও নারীরা সমতালে অংশ নিচ্ছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এ অর্থে নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। নারীরা যেসব ক্ষেত্রে শ্রম দিচ্ছেন তাদের সব ধরনের শ্রমের স্বীকৃতি দিয়ে দেশের উন্নয়নকে ভিন্ন মাত্রায় ত্বরান্বিত করা সম্ভব। দেশের উন্নয়নের ধারায় নারীদের সংখ্যা আরও ইতিবাচক করতে কাজ করার অবকাশ আছে।
এখন বাংলাদেশের গ্রামীণ নারী সমাজের সর্বত্র উন্নয়ন দৃশ্যমান। সমাজ এবং অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা সরব। গ্রামীণ নারী সমাজে সমঅধিকার, নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ঘরোয়া কাজে নারীর অবদান স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা সম্ভব।
দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান উৎপাদনে বাংলাদেশের উন্নয়নের নারী এখন চালিকা শক্তি। তাদের সামর্থ্য বাড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে। গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
যদি গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর সব ধরনের বৈষম্য দূর করা যায় তাহলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব।
অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অর্মত্য সেন বলেছেন, মানব সূচক উন্নয়নে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়েছে। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আনবে। তাছাড়া দেশের শীর্ষ কর্মপদে বাংলাদেশ নারীদের ক্ষমতায়ন দৃশ্যমান করেছে। এটিরও একটি শুভ প্রভাব অনিবার্য।
সাহস, যোগ্যতা, আত্মসম্মানবোধ ও সুশিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ নারী তার নিজের সমযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করছে। নারীকে পুরুষের মত সমসুযোগ ও নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে পারলেই অর্থনৈতিক মুক্তি সুনিশ্চিত। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন একটি অন্যতম শর্ত।