গোলক ধাঁধাঁয় শিশু শিখন

মোহাম্মদ আবুল মনসুর

11

শিশু শিখবে হেসে খেলে, ভয় ভীতি মুক্ত আনন্দঘন পরিবেশে। কিন্তু আজ আমরা কিছু অভিভাবক ও তথাকথিত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশু শিখনকে হিমালয়ে আরোহনের চাইতেও কঠিন করে ফেলেছি। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
ভারত চন্দ্র রায়ের মত আমরাও সকলেই চাই, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”। তাদের নিয়ে আমাদের স্বপ্নের অন্ত নেই আর সে বর্ণিল স্বপ্নগুলো নির্ভর করছে তাদেরকে যথোপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার উপর। কিন্তু আমাদের দেশে আজও মনে হয় যেন আমরা শিশুদের শিখন নিয়ে গোলক ধাঁধাঁয় আবর্তিত হচ্ছি।
শিশু কি শিখবে? কোন স্তরে কতটুকু শিখবে? কখন শিখবে? কিভাবে শিখবে? কোথায় শিখবে? ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়গুলো আজও মনে হয় যেন আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।
তাইতো আমরা অনেক ক্ষেএে নিরানন্দময়, বয়সের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, জগাখিঁচুড়ী,কঠিন ও শিশুদের অবোধগম্য পাঠ বা শিখন শিশুদের জোর করে গলাধকরণ করাচ্ছি ,ব্যাগ আর বইয়ের ভারে শিশু হয়ে যাচ্ছে কুঁজো , যা শিশুদের মেধা বিকাশে বড় অন্তরায়। যেমন কোন কোন বিদ্যালয়ে প্লেতে শিখানো হচ্ছে কৃষ্ণ গহবর ইংরেজী কি ? কোথায়ও ১ম শ্রেণীতে পড়ানো হচ্ছে ইউরেনিয়াম কি, কোন জেলায়, কোন থানায়, কোন গ্রামে পাওয়া যায়? আমরা কি শিশু সুলভ শব্দ ও পাঠ বা প্রশ্ন খুঁজে পাচ্ছি না? শিশু দেখে, নাড়াচাড়া করে, ব্যবহার করে এমন শব্দ বা পাঠ যা শিশুর কাছে বোধগম্য,সহজে শিখতে পারবে, শিখন স্থায়ী হবে এমন শিশুপোযোগী পাঠের অভাব দেখা দিল? মনে হয় যেন আমরা চাচ্ছি শিশু অবস্থায় তারা আইনস্টাইন বা নজরুল হয়ে যাক। ডিম পুষ্টিকর বলে, ছয় মাসের শিশুকে যদি দুইটি ডিম খাইয়ে দেই, তা কি সঠিক হবে? আজ আমরা বিদ্যলয় নির্ভর না হয়ে, হয়ে যাচ্ছি কোচিং নির্ভর , শ্রেণী শিক্ষক নির্ভর না হয়ে, হয়ে যাচ্ছি গৃহ শিক্ষক নির্ভর।
আরো ভুলে যাচ্ছি শিশুদের ঘুম,বিনোদন, খেলাধূলার কথা, চাই শুধু তারা সারাক্ষণ পড়ার টেবিলেই বসে থাকুক। এ সকল ধ্যান-ধারণা আজ মেধা বিকাশের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে, শিক্ষা দানকে সেবা হিসাবে গ্রহণ করতে হবে, শিক্ষকদেরকে যথাপোযুক্ত মর্যদা দিতে হবে,শিক্ষকদেরকেও আন্তরিক হতে হবে, সরকারী নিদের্শনা মানতে হবে, শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ গড়তে হবে তবেই আমরা শিশু শিখন ক্ষেএে মান সম্মত শিক্ষার্জন করে অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছতে পারব।