গুলশান হামলায় ৩৯ লাখ টাকা যুগিয়েছিলেন শরিফুল

12

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সর্বশেষ পলাতক আসামি শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছে, ভয়াবহ ওই জঙ্গি হামলার জন্য ৩৯ লাখ টাকার যোগান দিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শরিফুল তার বিভাগেরই অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত। ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিলের ওই হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততার কথা শরিফুল স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। খবর বিডিনিউজের গত শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল শনিবার
দুপুরে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ বছর বয়সী শরিফুলকে হাজির করে র‌্যাব।
র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, রাজশাহীর বাগমারার ছেলে শরিফুল ২০০৮ সালে মাধ্যমিক ও ২০১০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আহসান হাবিব ওরফে শোভন নামের ‘নব্য জেএমবির’ এক সদস্যের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন শরিফুল। সে সময় তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।
“এরপর সে আর থেমে থাকেনি। শোভনের মাধ্যমেই শীর্ষ জঙ্গি তামীম চৌধুরীর সাথে পরিচয় হওয়ার পাশপাশি ঘনিষ্ঠতা হয় জেএমবির স্থানীয় আমির সারোয়ার জাহানের সঙ্গে। এরপর সাদ্দাম, মারজান ও সাকিব মাস্টারের সাথে তার একাধিক বৈঠক হয়।”
শরিফুল জঙ্গির তালিকায় নাম লেখানোর তিন বছরের মাথায় তার বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিমকে ‘হত্যা করেন’ এবং তারপরেই আত্মগোপনে চলে যান বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ। আত্মগোপন থেকেই সে হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনা করে।”
তিনি বলেন, শরিফুল কখনও খালিদ, কখনও রাহাত, কখনও সাইফুল্লাহ, নাহিদ বা আবু সোলাইমান নামে নিজের পরিচয় দিতেন।
শরিফুল হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন দাবি করে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, “সে প্রত্যক্ষভাবে অর্থ সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও হামলাকারী নির্বাচনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছিল।
“সে সময় ৩৯ লাখ টাকা এই শরিফুল বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করে হামলার কাজে ব্যয় করেছিল বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে।”
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ তরুণের ওই হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে জবাই ও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন কমান্ডো অভিযানে নিহত হন হামলাকারী পাঁচ তরুণ – রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
আসামিদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ২৬ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার আসামিদের মধ্যে নব্য জেএমবির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান ও হাদিসুর রহমান সাগরকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাকি দুই আসামি শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ রিপনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলছিল। তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
গত ১৯ জুন মধ্যরাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার কয়েক দিনের মাথায় শরিফুলও গ্রেপ্তার হলেন।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, “শরিফুল দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি বের হয়ে আবার সংগঠনের সদস্যদের সংগঠিত করার কাজে লেগে পড়ে। এই তথ্য জানতে পেরে তার সহযোগী মামুনকে গ্রেপ্তার করার পর তার অবস্থান সনাক্ত করা হয়।”
শরিফুল অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে তার বরাতে ওই হত্যার বিবরণও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন র‌্যাব মুখপাত্র।
“শরিফুল জানিয়েছে, আমিরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই হত্যা পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য তাদের সংগঠনের সদস্য কলেজছাত্র রিপন আলী ওরফে রকি রেজাউল করিমের ছবি তুলে তাদের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছায়।