প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির মামলা

গিয়াস কাদেরের ৩ বছর কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

19

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালত এ রায় দেন।
২০১৮ সালের ২৯ মে ফটিকছড়িতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার বাবার চেয়েও আপনার অবস্থা খারাপ হবে। আপনার বাবার মৃত্যুর পর যেমন ইন্নালিল্লাহ পড়ার লোক ছিল না, আপনার পরিণতি তার চেয়েও খারাপ হবে।’
এই বক্তব্যকে ‘হুমকি’ অভিহিত করে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মোট ছয় জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ আদেশ দিলেন।
জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ মে আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। এ মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে অগ্রিম জামিন নেন। পরে একই বছরের ২২ নভেম্বর নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। ওই মামলায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত চার্জ গঠন করে মামলার বিচার কাজ শুরু করেন। ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত গতকাল এ রায় দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বর্তমানে পলাতক আছেন।