গল্পকার সম্পাদক কথা-সাহিত্যিক মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকার

20

আন্তর্জাতিক লেখক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল এর বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা ভাষার একমাত্র গল্পবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘গল্পকার’-এর সম্পাদক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গল্পকার। সমাজ বাস্তবতার নিরিখে তৃনমূল মানুষের জীবনচিত্র সুন্দর, সাবলীল এবং বাস্তব রূপে ফুটে উঠে তার লেখালেখিতে। জীবন সংগ্রামে লিপ্ত সাধারণ মানুষের কথাই তার লেখার অনুষঙ্গ। প্রথম উপন্যাস ‘নিশাচর আবেদ আলী’ ২০০০ সালে প্রকাশের পরই সাধারণ পাঠকের আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর প্রথম উপন্যাসটি ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব-৩০ বর্ষসেরা লেখক হিসেবে প্রথম জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পায়। প্রথম উপন্যাস জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়ে যাওয়ায় লেখালেখির দ্বার খুলে যায় মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের। অতপর বাংলাদেশের কিংবদন্তী নাট্যব্যাক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল মামুন ও মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের যৌথ রচনা ও পরিচালনায় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয় নাটক। লিখেন চলচ্চিত্রের জন্য গান। এ পর্যন্ত তাঁর ১২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক ও খন্ড নাটক বিভিন্ন প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নাজনীন সুলতানা।
নাজনীন ঃ প্রথম উপন্যাস ‘নিশাচর আবেদ আলী’ লিখেই মাত করে দিলেন। উপন্যাসটি সম্পর্কে বলুন।
মহিউদ্দিন ঃ ‘নিশাচর আবেদ আলী’ আমার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। কিন্তু আমার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘সেই ছেলেটি’ যেটি প্রকাশের মুখ দেখেনি। আমার এক বন্ধু উপন্যাসটি প্রকাশ করবে বলে নিয়েছিল। এটি ১৯৯৭-৯৮ সালের কথা। বন্ধুটি আমার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘সেই ছেলেটি’ প্রকাশ করেছিল কিনা জানতে পারিনি। চলার পথে এক/দু’বার দেখা হয়েছিল। অভিমান করেই উপন্যাসটির কথা জানতে চাইনি। তারপর ২০০০ সালে ‘নিশাচর আবেদ আলী’ উপন্যাসটি লিখি। এ উপন্যাসটি এক মাসেই লিখে শেষ করি। তখন ছিল রমজান মাস। সারাদিন খাওয়া-দাওয়ার টেনশন নেই শুধু লিখা আর লিখা।
নাজনীন ঃ উপন্যাস তো লিখলেন। প্রকাশ করলেন কীভাবে?
মহিউদ্দিনঃ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই লিখা যত কঠিন প্রকাশ করা তার চেয়েও ঢের কঠিন। নতুন লেখকের বই সাধারণত কোন প্রকাশ করতে চাইবে না। আমার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তখনও আমি ছাত্র, পরিবার ও টিউশনের পয়সায় চলি। বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ধার-কর্জ করেই উপন্যাসটি ছাপতে দিই। গ্রীন প্রকাশনী নামে ঢাকার এক প্রকাশককে। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাতেও তাদের একটি শাখা ছিল। আমার প্রথম বই প্রকাশের গল্পটি বেশ ঘটনাবহুল। অন্য কোন সময় বলব।
উপন্যাসটি প্রকাশের কয়েকদিন পর চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের পাশে একটি বইমেলা হয়। সেখানে প্রকাশকের স্টলে আমার বইটি শোভা পাচ্ছিল। আমি ঘুরে-ফিরে দেখছিলাম। পাঠকরা উল্টে-পাল্টে দেখছে। কিন্তু কেউ কিনছে না। একদিন শুনলাম আমার একটি বই বিক্রি হয়েছে। আমার সে যে কী আনন্দ।
নাজনীনঃ ‘নিশাচর আবেদ আলী’ উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? অথবা উপন্যাসটি লিখার পেছনে কী আপনাকে তাড়িত করেছে?
মহিউদ্দিনঃ ‘নিশাচর আবেদ আলী’ মূলতঃ একটি সমাজ সংস্কারমূলক উপন্যাস। উপন্যাসের মূল নায়ক আবেদ আলী রাতের আঁধারে শহরে ঘুরে বেড়ায়। রাতের শহরে যেসব অসংলগ্নতা তার চোখে ধরা পড়ে তাই সে সংস্কার করতে চায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরে মাজার সংস্কৃতির ক্রমবিকাশ, ধর্মের নামে অধর্মের যে বেসাতি চলে তাই সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নাজনীন ঃ অনূর্ধ্ব-৩০ বর্ষসেরা লেখক হিসেবে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পেল আপনার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘নিশাচর আবেদ আলী’। কীভাবে পুরস্কার পর্যন্ত বইটি গেল? এবং পুরস্কার প্রাপ্তিতে আপনার অভিজ্ঞতা বলুন।
মহিউদ্দিন ঃ ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসের কোন এক সময়ের কথা। চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লার বর্তমান মাহী বুকসের স্বত্বাধীকারী কামরুল ভাই আমাকে পুরস্কারটির ব্যাপারে অবগত করেন। খবরের কাগজটিও তিনি আমাকে দিলেন। প্রকাশিত বইটির ১১টি কপি পাঠাতে হবে। মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘সাঁকো’ পুরস্কারটির আয়োজন করে। ধার-দেনা করে বই প্রকাশ করে তার ১১টি কপি পাঠাতে আমার মন সায় দেয়নি। বই জমা দেয়ায় এক্কেবারে শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত পালটালাম। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বই পাঠিয়ে দিলাম মাসিক সাঁকোর কার্যালয় ঢাকায়।
কিছুদিন পরেই হঠাৎ আমার ঠিকানায় মাসিক ‘সাঁকো’ পত্রিকাটি এলো। ওতে পাঁচ জন তরুণ লেখকের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেখলাম। যাতে আমার নামটি দুই নাম্বারে আছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আমার নামটি এসেছে ওতেই আমি তৃপ্ত। একজনকে পুরস্কারকে দেয়া হবে, এটি ঘোষণা করাই ছিল। সংগত কারণে ধরেই নিয়েছিলাম আমি পুরস্কার পাচ্ছি না। পুরস্কারটি দেয়া হয়েছিল ২০০১ সালের পহেলা বৈশাখ জাতীয় জাদুঘরের বৃহৎ মিলনায়তনে। দিনটি আরো একটি বিশেষ কারণে স্মরণীয়। সেদিন রমনা বটমূলে বোমা ফুটেছিল। অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল আর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
তারপরও ‘সাঁকো’ পত্রিকার আহবানে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। পুরস্কার দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাবাহউদ্দিন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফরাসউদ্দিন সহ অনেকে। অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়ে জাতীয় অধ্যাপক করীর চৌধুরী পুরস্কার প্রাপ্ত লেখকের নাম ঘোষণা করেছিলেন। নির্বাচিত পাঁচজন তরুণ লেখকই আমরা সামনের সারিতে বসেছিলাম। অনেকেই ধরে নিয়েছিল তালিকায় যার নাম প্রথমে আছে সেই পুরস্কার পেতে যাচ্ছে। কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে ঘটনাটি অন্যরকমই ঘটলো। পুরস্কারের নাম ঘোষণার পর মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমদ সম্মাননাপত্রসহ একে একে পাঁচটি পুরস্কার আমার হাতে তুলে দিলেন। পাঁচবারই আমি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছি। পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল এক লক্ষ টাকা। পুরো ব্যাপারটি আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল।
নাজনীন ঃ বাংলাদেশের কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল-মামুনের সাথে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। উপন্যাস থেকে নাটকে যাওয়ার অনুপ্রেরণা কে ছিল?
মহিউদ্দিন ঃ অনুপ্রেরণা নয় বলা যায় জেদ। তখন আমি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামে বেশ প্রোগ্রাম করি। অনুষ্ঠান পরিচালনা, উপস্থাপনা, জীবন্তিকা, কথিকা, ধাঁধার আসর এবং বিশেষ অনুষ্ঠান, তখন আঞ্চলিক পরিচালক ছিলেন নারায়ণচন্দ্র দাস। তিনি আমাকে বেশ ¯েœহ করতেন। তিনিই বললেন বেতারের জন্য নাটক লিখে দিতে। আমি বললাম নাটক কিভাবে লিখে আমি জানি না। তিনি বললেন জীবন্তিকার মতোই। তবে পরিধিটা বড়সড়ো। লিখে ফেললাম নাটক। নারায়ণবাবু আমার স্ক্রীপ্ট নাটকের পরিচালককে দিলেন। তাঁর নামটি এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না।
নাটকের পরিচালক বললেন স্ক্রীপ্টটি একটু ঘষামাজা করলেই নাটকে দাঁড়িয়ে যাবে। কিন্তু এ নাটক তো রেডিওতে প্রচার করা যাবে না। জানতে চাইলাম কেন? তিনি বললেন আমি তো তালিকাভুক্ত নাট্যকার নয়। নারায়ণবাবু বললেন আমার নাটক প্রচার হলেই তো আমি নাট্যকার হয়ে যাই। কিন্তু নাটকের পরিচালক অজানা কোন কারণে এড়িয়ে গেলেন। আমার মাথায়ও জেদ চাপলো। বললাম আমার নাটকে বেতারে নয় টেলিভিশনে যাবে।
চলে এলাম ঢাকায়। একটি ইংরেজি পত্রিকায় চাকরি নিলাম। পুরস্কার পাওয়ার সুবাদে কবীর চৌধুরী স্যারের বাসায় আমার নিত্য যাওয়া-আসা। একদিন কবীর স্যারকে বললাম স্যার আমি নাটক লিখতে চাই। স্যার বললেন মামুনের সাথে যোগাযোগ কর। তখন আবদুল্লাহ আল-মামুন রামেন্দু মজুমদারের বিজ্ঞাপনী সংস্থা এক্সপ্রেশানে বসতেন। অফিস ছিল মতিঝিল। সেখানে গিয়ে তার সাথে দেখা করি।
সময়টা আমার জন্য একেবারেই যুতসই ছিল। আবদুল্লাহ আল মামুন এটিএন বাংলার জন্য একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকের পরিকল্পনা করছিলেন। পাঁচটি পর্ব লিখেছেন। তাঁর উপন্যাস ‘গন্ডা পান্ডার বাবা’ অবলম্বনে। আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁর উপন্যাসটি পাঁচ পর্বের নাটকের স্ক্রীপ্ট আমাকে দিলেন। বললেন ষষ্ঠ পর্বটি লিখে নিয়ে এসো। কথামতো উপন্যাসও লিখা পাঁচটি পর্বের ধারাবাহিকতায় নাটকটির ষষ্ঠ পর্ব লিখে আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দিলাম। তিনি পর্বটি পড়ে বললেন মহিউদ্দিন তোমাকেই আমার দরকার। আবার আমাকেও তোমার দরকার। প্রতিউত্তরে বলার মতো কোন ভাষা আমার ছিল না। সেই থেকে টেলিভিশনের জন্য আমার নাটক লিখা শুরু। ধারাবাহিক নাটকটির নামছিল ‘এক জনমে’, ২০০৬-৮ পর্যন্ত মাসে আটটি পর্ব করে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে। প্রায় তিন’শ পর্ব। বাংলাদেশের দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে সেই সময় এটিই ছিল প্রথম দীর্ঘ ধারাবাহিক। টেলিভিশনে নাটকটির রচনায় আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে আমার নাম প্রচারিত হয়েছে। এছাড়াও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন চ্যানেলে আমাদের যৌথ রচনায় অনেক ধারাবাহিক ও খন্ড নাটক প্রচারিত হয়েছে।
নাজনীন ঃ এখন কী নাটক লিখেন?
মহিউদ্দিন ঃ এখন নাটক লিখা হয় না বললেই চলে। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ নাটকেই সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানো আর ভাড়ামি ছাড়া তেমন কিছু দেখা যায় না। তার সাথে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। বিজ্ঞাপনের ফাঁকেই যেন একটু নাটক দেয়া।
টেলিভিশন একটি পারিবারিক মিডিয়া। কিন্তু বর্তমান সময়ের যে সব নাটকগুলো টেলিভিশনে দেখানো হয় তার অধিকাংশই পরিবারের সব সদস্যদের একসাথে বসে দেখার মতো পরিস্থিতি নেই। তাছাড়া ভারতের জি বাংলা, স্টার জলসা, স্টারপ্লাস সহ অনেকগুলো চ্যানেলের উপদ্রব আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভারতীয় নাটকের পরকীয়া, বউ-শ্বাশুড়ির দ্ব›দ্ব, অশ্লীলতা, আমাদের পারিবারিক বন্ধন, স্নেহ ও শ্রদ্ধাবোধ ধ্বংস করে সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। খবরের কাগজে ওসব নাটকের খারাপ প্রভাব নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হয়নি।
নাজনীন ঃ আপনি বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত গল্পবিষয়ক একমাত্র নিয়মিত মাসিক ‘গল্পকার’ এর সম্পাদক। গল্প নিয়ে আলাদা পত্রিকা করার কথা মাথায় এলো কেন?
মহিউদ্দিন ঃ কবিতা নিয়ে আলাদা অনেক পত্রিকা দেখা যায়। কিন্তু শুধু গল্প ও গল্পবিষয়ক লেখা নিয়ে ছ’মাস অথবা বাৎসরিক সংকলন ছাড়া তেমন কিছু দেখা যায় না। তাছাড়া আমার মনে হয় কোন গল্পের শুরুটা যদি একজন পাঠককে টানে তবে তিনি গল্পটি শেষ করতে চান। গল্প পাঠে পাঠকের আগ্রহও বেশি থাকে। জানুয়ারি ২০১৫ সালে ‘গল্পকার’এর প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশে গল্পপ্রিয় এতো পাঠক আছে তা ‘গল্পকার’ প্রকাশ হওয়ার আগেও জানা ছিল না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ‘গল্পকার’। জেলায় জেলায় ‘গল্পকার’ পাঠক ফোরাম তৈরি হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক লেখক আছেন যারা ভালো লিখলেও জাতীয় পত্রিকায় লিখার সুযোগ পান না। তাদেরকে শুধু লেখার মান যাচাই করেই ‘গল্পকার’ এ লিখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
আমি আনন্দের সাথে জানাতে চাই বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ, বাংলা ভাষা-ভাষী অনেক প্রবাসী বাঙালীদের কাছেও ‘গল্পকার’ এখন প্রিয় মাসিক পত্রিকা। দেশের ভেতর আমাদের বাৎসরিক গ্রাহকের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের ভালোলাগা ও ভালোবাসায় ‘গল্পকার’ এগিয়ে যাবে এটাই আমার প্রত্যাশা ও প্রার্থনা।
নাজনীন ঃ আপনার নিজের লেখালেখির কথা বলুন।
মহিউদ্দিন ঃ লেখালেখি বলতে এ পর্যন্ত আমার নয়টি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ ‘এখানে ভাড়ায় মানুষ পাওয়া যায়’ টেলিভিশনে নাটক প্রচারিত হয়েছে ধারাবাহিক আর খন্ড মিলিয়ে একাধিক। জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকায় গল্প ও গল্পবিষয়ক লেখা প্রকাশ পাচ্ছে। তাছাড়া আমার অনেকগুলো গল্প থেকে একটি নির্বাচিত গল্পসমগ্র প্রকাশের ইচ্ছে রয়েছে।
নাজনীন ঃ এবার বিদায় নিতে চাই। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
মহিউদ্দিন ঃ আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে পাঠকদেরও ধন্যবাদ।
নতুন উপন্যাস “প্রেম ও ধর্ম কেনাবেচার হাট ”