গরমের দিনে তালের শাস

আসহাব আরমান

21

‘মধুমাস’ জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি সময় চলছে। আম, কাঁঠাল ও লিচুসহ নানা ধরনের রসালো মৌসুমী ফলে সয়লাব নগরীর ফলের বাজারগুলো। গ্রীষ্মের এই দিনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু তালের শাস বা তালের আঁটি। গরমের দিনে অন্যান্য খাবারের চেয়ে তালের শাস অনেক উপকারী। এছাড়াও এই ফলের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য গুণাগুণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর কদমতলী মোড়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্তুপ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কঁচি তাল। পাইকারীতে প্রতি শত কঁচি তাল বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এখান থেকে নিয়ে ভ্যানে করে এসব কঁচি তাল বিক্রি হচ্ছে নগরীর অলিতে-গলিতে। খুচরা বিক্রেতারা প্রতিটি তাল বিক্রি করছেন ১০ থেকে ২০ টাকায়। গরমে ক্লান্ত পথচারীরা রসালো তাল শাস খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সী লোকের মধ্যে এই ফলের রয়েছে বেশ কদর।
বিক্রেতা রফিকুল আলম জানান, আমরা প্রতি বছর চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাল শাস নিয়ে আসি। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়াতে তাল নিয়ে আসলাম। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা অনেক কম।
পাইকারি বাজার থেকে কিনে নিয়ে ভ্যানে করে বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতা আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, অন্যান্য সময় বেচা-বিক্রি ভালোই হতো। তবে এখন করোনা সংক্রমণের ভয়ে সাধারণ মানুষ ভ্যান থেকে খুব একটা কিনছে না। অন্যান্য সময় প্রতিদিন ৫০০ টাকা লাভ হলেও এখন লাভ হয় ২৫০-৩০০ টাকা। ফলে আগের চেয়ে আয়-রোজগার অনেক কম।
ক্রেতা মো. আমিন জানান, এক সময় গ্রামে প্রচুর তালের শাস খাওয়া হতো। তবে শহুরে জীবনে খুব একটা খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই সামনে পড়তেই সুস্বাদু এই ফলটির লোভ সামলাতে পারলাম না। যদিও গ্রামের সেই স্বাদ এখানে অনুপস্থিত। গরম থেকে এসে তালের শাস খেতে ভালই লাগে।
এছাড়াও তালের শাসের নানা ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তালের শাস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কচি তালের শাস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায় এই তালের শাস।