গণিতে সাফল্যের জন্য দরকার চেষ্টা আর মনোযোগ

শুভংকর দত্ত

13

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, যারা এবার জেএসসি পরীক্ষা দেবে, তারা নিশ্চয়ই প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছ। তবে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর কাছে গণিতকে অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় একটু কঠিন বলে মনে হয়। তাদের উদ্দেশে আমি বলব, অন্যান্য বিষয়ের মতো গণিতও সহজবোধ্য একটি বিষয়। গণিতকে বন্ধু ভেবে মনোনিবেশ সহকারে প্রতিদিন চর্চা করলেই এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা যায়। যারা এবার জেএসসি পরীক্ষা দেবে, তারা নিচের টিপস অনুসরণ করলে ভালো ফল পাবে।
১। পাটিগণিতের অঙ্কগুলো বারবার মন দিয়ে পড়তে হবে। প্রদত্ত সমস্যার গভীরে প্রবেশ করে কী করতে হবে, তা স্থির করতে হবে এবং সে মতো সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে। হালকাভাবে প্রশ্ন পড়ে কখনো সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হবে না। সে ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত ফল প্রাপ্তি নাও হতে পারে।
২। বীজগণিতের সূত্র প্রয়োগ করে মান নির্ণয় করণ এবং সরল করার ক্ষেত্রে সূত্রের প্রয়োগ বারবার করা আবশ্যক। মনে রাখবে, যত চর্চা করবে, ততই সূত্রগুলো মনে থাকবে এবং তোমার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
৩। বীজগণিতের প্রশ্নের অঙ্কগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করবে এবং লক্ষ করবে প্রদত্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তোমার গঠিত সমীকরণটি সঠিক হয়েছে কি না।
৪। বীজগণিত অঙ্কের ‘উৎপাদকে বিশ্লেষণ করো’ অঙ্কটি অবশ্যই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। কারণ উৎপাদকে বিশ্লেষণ শিখতে পারলেই তুমি ল.সা.গু. গ.সা.গু এবং এ সংক্রান্ত অঙ্কগুলো সমাধান করতে পারবে।
৫। লেখচিত্র অঙ্কন ও তা থেকে প্রদত্ত দুটি সরলরেখার সমীকরণের সমাধান অতি সহজেই করা যায়। বাড়িতে এ অধ্যয়টি একটু চেষ্টা করলেই নিজের দখলে আনতে পারবে।
৬। জ্যামিতির উপপাদ্যগুলোর প্রতিজ্ঞা (ঞযবড়ৎবস) মুখস্থ রাখবে। কারণ অনুশীলনীর সমস্যা সমাধানে সবসময় এর প্রয়োজন পড়বে।
৭। চিত্র সঠিকভাবে আঁকবে। বিকৃত চিত্র হলে কোনো নম্বর পাবে না।
৮। ঐই পেনসিল ব্যবহার করে কাটা কম্পাস ও স্কেলের সাহায্যে জ্যামিতির সম্পাদ্য অঙ্কন করবে। অবশ্যই অঙ্কনের চিহ্ন খাতায় থাকতে হবে।
৯। উপপাদ্য এমনভাবে প্রমাণ করবে, যাতে পরীক্ষককে বারবার পৃষ্ঠা উল্টিয়ে খাতা দেখতে না হয়।
১০। সব পরীক্ষার্থীকে বলব, সব কিছুই শিখবে ও জানবে। তা না হলে বোর্ডের নির্দেশানুযায়ী এমনভাবে প্রস্তুতি নেবে যাতে সব অনুশীলনী না করেও তুমি শতভাগ উত্তর করতে পারো।