গণপরিবহন শূন্য মহাসড়কে বিকল্প বাহনে ঈদযাত্রা

8

করোনাভাইরাস মহামারিতে গণপরিবহন শূন্য মহাসড়কে বিকল্প যান খুঁজছে ঈদে ঘরমুখী মানুষ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা-টঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গায় দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে এখানে এসে অনেকেই বাড়ির বাকি পথ যেতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন।
দু’দিন পর ঈদ; কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়ি যাওয়ার নিশ্চিত কোনো উপায় নেই। তবু মানুষ ছুটছে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে। তাই নানাভাবে বিকল্প উপায় খুঁজতে হচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছতে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার মানুষকে ঘরে ঈদ করার পরামর্শ দিলেও গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতে গ্রামে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মির্জাপুরের গোড়াই থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সাতটি চেকপোস্ট আছে। এগুলোতে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রী বহনকরা যানবাহন যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি যেতে পারছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন আর ব্যক্তিগত গাড়ি বাদে সব ধরনের যানবাহন চেকপোস্ট থেকে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের বিকল্প যানের খোঁজ করতে দেখা গেছে।
ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ঢাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে কর্মস্থল থেকে তার বগুড়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে এলেঙ্গায় পৌঁছান গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে। কিন্তু এলেঙ্গা এসে বিপদে পড়েন। বাকি পথ বাড়ি যেতে হলেও তাকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যেতে হবে। ফাহিম বলেন, ‘যেভাবে পুলিশ চেক করছে কিভাবে যে বাড়ি যাব আল্লাহই ভালো জানেন’।
তাকে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যন্ডে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
একই অবস্থা গাজীপুর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে আসা মজনু মিয়ার। তিনি বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে তিনি গ্রামের বাড়ি নাটোরের বনপাড়া যাবেন। কিন্তু এলেঙ্গায় এসে আটকা পড়েছেন।
শুধু ফাহিম ও মজনু মিয়া নন; তাদের মতো অনেককেই উত্তরের সড়ক পথে টাঙ্গাইলের সীমানায় আটকা পড়ে বিকল্প পথে বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
টাঙ্গাইল গোড়াই হাইওয়ে থানার এলেঙ্গা ফাঁড়ির ওসি কামাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট। অপ্রয়োজনে মানুষ যাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি না করে এবং মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে যাতে মানুষ চলাচল না করতে পারে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা। খবর বিডিনিউজের