বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে আবু সুফিয়ান

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় ফরমায়েশি

19

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য একটি সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে বিচারের নজির পৃথিবীতে নেই।’
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা ও সাজানো রায়ে সাজা দেওয়ার’ প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অসুস্থ থাকা অবস্থায় কোনো মামলায় বিচারের রায় দেওয়া আইনবিরোধী। এই রায়ে বেগম জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে একটা ফরমায়েশী রায়। সরকার যা বলছে, যা চেয়েছে এবং সরকারের মন্ত্রীরা যা বলছেন, সেগুলোর প্রতিফলন হয়েছে এই রায়ের মধ্যে। তাই আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সফল সমাবেশের মাধ্যমে প্রামাণিত হয়েছে চট্টগ্রাম শহীদ জিয়া ও বিএনপির ঘাঁটি। এই সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতির চিত্র পাল্টে গেছে। চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে জনগণ মেসেজ দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে আর বন্দি করে রাখা যাবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে বিএনপি।’
তিনি বলেন, ‘সরকার চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে গায়েবি মামলা ও গণ গ্রেপ্তার এখনো অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন বিএনপির শত শত নেতাকর্মীদেরকে অমানবিকভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সমাবেশ থেকে বের হওয়ার পথে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, আকবার শাহ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ওয়াসিমুল গণি, কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলী আজমি মাবুদকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এভাবে গ্রেপ্তার নির্যাতন করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।’ তিনি তিনি অবিলম্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সহসভাপতি ইকবাল চৌধুরীসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত গায়েবী মামলা প্রত্যাহরের জোর দাবি জানান তিনি।
চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আরেকটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই বিচারকার্য একতরফাভাবে চলেছে। অসুস্থ হওয়ার পরে বেগম জিয়া আদালতে আসতে পারছিলেন না। বেগম জিয়ার বিচার করার জন্য জোর করে আদালত বসানো হয় কারাগারে। সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে এই সাজা। সরকারের পক্ষে কোন জনমত নেই বলেই ভোটারবিহীন সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্দুকের জোরে আদালতকে হাতে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দÐ দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু। সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন, ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম বাচ্চু, নগর মহিলা দলের সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, শেখ নুরুল্ল­াহ বাহার, থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশারফ হোসেন ডিপ্টী, সাইফুর রহমান বাবুল, মো. সেকান্দর, সহসম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, মো. খোরশেদ আলম কুতুবী, মো. শাহাজাহান, ইসমাঈল বাবুল, আজাদ বাঙালী, আবদুল মতিন, আলী আজম, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, নগর বিএনপির সদস্য ইউসুফ সিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন রাজু, মহসিন চৌধুরী, আখি সুলতানা, শাহেদা বেগম, রেজিয়া বেগম মুন্নি, নগর যুবদলের সহসভাপতি নূর আহমদ গুড্ডু, ফজলুল হক সুমন, নাসিম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, ছাত্রদল নেতা শেখ রাশেল, নগর তাঁতী দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মুনসি, হাসান ওসমান প্রমুখ।
বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় মাঠে কেন্দ্রঘোষিত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তি