খাগড়াছড়িতে দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ

11

খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের দুটি গ্রাম এখনও পিছিয়ে আছে সেতুর অভাবে। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষায় এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হয়ে পড়েন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে প্রতিবছর ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ভোগে থাকা গ্রাম দুটি প্রত্যন্ত কোনও এলাকা নয়। খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে উত্তর গঞ্জপাড়া ও গোলাবাড়ি গ্রাম দুইটি। জেলা শহর থেকে গ্রাম দুটিকে আলাদা করেছে চেঙ্গী নদী। নদীর ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে আছে এই দুই গ্রামের প্রায় হাজারও মানুষ। বিশেষ করে অসুস্থ নারী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও স্কুলগামী শিশুদের ভোগান্তি বেশি।
চলমান শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সবাই এই সাঁকো ব্যবহার করছে। কিন্তু কোনও ধরনের যান এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। এদিকে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষাকালে বাড়ে ভোগান্তি। অনেক সময় কাঠের সেতুটি ভেসে যায় পাহাড়ি ঢলে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা হয় একমাত্র যোগাযোগের উপায়। নৌকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করতে গিয়ে প্রতিবছর ঘটছে দুর্ঘটনা।
উত্তর গঞ্জপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম জানান, জন্মের পর থেকে তারা যোগাযোগ ভোগান্তিতে আছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুই গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে থাকে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে সহজে হাসপাতাল যেতে পারে না। বর্ষাকালে কেউ মারা গেলে কয়েক কিলোমিটার জায়গা ঘুরে কবরস্থানে যেতে হয়। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রæতি দিলেও তার কোনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ গ্রামবাসী। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাথোয়াই মারমা জানান, খাগড়াছড়ি পৌরসভা সংলগ্ন চেংগী নদীর পশ্চিম পাড়ে গ্রাম দুটির অবস্থান। পৌরসভায় উন্নয়নের আলো সুস্পষ্ট হলেও তারা রয়েছেন অন্ধকারে। তাদের ইউনিয়ন পরিষদ, চেয়ারম্যান, মেম্বার, নেতা সব আছে-নেই শুধু উন্নয়ন। একটি সেতুর জন্য তারা চরম দুর্ভোগে থাকলেও কারও কোনও মাথাব্যথা নেই।
গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি ত্রিপুরা বলেন, ‘চেংগী নদীর ওপর ব্রিজ করার মতো এত বড় প্রকল্প নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানালেন এই জনপ্রতিনিধি।
জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গ্রাম দুটির মানুষের যোগাযোগ বিড়ম্বনার কথা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছি। তবে যেহেতু জেলার প্রধান নদীর ওপর ব্রিজ হবে-তার সমীক্ষা প্রয়োজন।’ সংস্থাগুলোর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকল্প নিতে সংস্থাগুলোসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানালেন তিনি।