বাঁশখালী ভূমি অফিসে দুদকের হানা

খতিয়ানের ১৩৭ নং দাগ হয়ে গেলো ১৩৭০!

নিজস্ব প্রতিবেদক

92

বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা মৌজায় খতিয়ানের দাগ নম্বর হাতে ঘষে পরিবর্তন করা হয়েছে। খতিয়ানের ১৩৭নং দাগকে বানানো হয়েছে ১৩৭০। একইভাবে আরো একটি নামজারি মামলার নথি চাইলেও দুদক টিমকে উপস্থাপন করতে পারেনি ভূমি অফিসে কর্মরতরা। দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ পেয়ে গতকাল এই মৌজার আওতাধীন চাম্বল ভূমি অফিসে অভিযান চালিয়েছে সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর একটি টিম। অভিযানকালে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী পূর্বদেশকে বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়ে এনফোর্সমেন্টে গিয়েছিলাম। চাম্বল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় পশ্চিম বড়ঘোনা মৌজার খতিয়ান নং ৪৯১ এর একটা দাগ নং ১৩৭। এই ১৩৭ দাগ নম্বরের শেষে একটি শূন্য (০) হাত দিয়ে লিখে বানানো হয়েছে ১৩৭০। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেক কিছু বুঝানোর চেষ্টা করেন ভূমি অফিসের লোকজন। তারা আমাদের জানান, সূচিপত্রে এভাবেই ১৩৭০ লিখা আছে। আমি তাদেরকে সূচিপত্রে ১৩৭ দেখাতে বললে সেটা দেখাতে পারেননি। আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে পাঠাবো। কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিবে সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল বশিরুল ইসলাম পূর্বদেশকে বলেন, ‘দুদক যাওয়ার কথা শুনেছি। আমি বাড়িতে এসেছি। কালকে (আজ) অফিসে গেলেই বিষয়টি জানতে পারবো।’
জানা যায়, বাঁশখালীর চাম্বল ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা চন্দন দাশ দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীতে কর্মরত। বিভিন্ন সময় চন্দন দাশকে বদলি করলেও তিনি কৌশলে বদলি বাতিল করেন। যে কারণে দীর্ঘ এক যুগ ধরেই বাঁশখালীতে কর্মরত আছেন চন্দন দাশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নামজারি সৃজনে ঘুষ আদায় ও দালাল লালন-পালনের অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। একইভাবে জলদী সদর ভূমি অফিসেও সংঘবদ্ধ দালাল চক্র আছে। যারা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায় ভূমি অফিসের নথির হিসেব রাখেন নখদর্পণে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এই দালাল চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক লেনদেন করেন বলে অভিযোগ আছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী পূর্বদেশকে জানিয়েছেন ‘উপ-সহকারী কর্মকর্তা চন্দন দাশ চার বছর ধরে সেখানে আছেন । প্রকৃতপক্ষে কতদিন ধরে আছেন তা আমরা জানবো।’