ক্ষুধার্ত মানুষের মুখের গ্রাস ‘চুরি’ করছে হুথি বিদ্রোহীরা

18

ইয়েমেনে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখের গ্রাস ‘চুরি’ করছে দেশটির ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সোমবার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে বলেন, তার সংস্থার হাতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ রয়েছে। ডেভিড বিসলে বলেন, দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিমজ্জিত মানুষদের সহায়তার জন্য পাঠানো খাদ্যসামগ্রী সরিয়ে ফেলে হুথিরা।
এ ধরনের নিকৃষ্ট কর্মকান্ড থামাতে হুথিদের প্রতি আহব্বান জানিয়েছে ডব্লিউএফপি। সংস্থাটির জরিপে দেখা গেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার বাসিন্দারা ত্রাণ হিসেবে জাতিসংঘের পাঠানো খাদ্যসামগ্রী পায়নি। অথচ তাদের জন্যই এ সহায়তা পাঠানো হয়েছিল। কেননা সেখানকার ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা অপরিহার্য।-আল জাজিরা।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, জাতিসংঘের পাঠানো খাদ্যসামগ্রী ক্ষুধার্ত মানুষের মধ্যে বণ্টনের বদলে উল্টো তা নিয়ে ব্যবসা করেছে হুথিরা। তারা এসব খাবার সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করেছে। হুথিদের পক্ষ থেকে অবশ্য ডব্লিউএফপি’র অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম জানায়, যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে গড়ে প্রতি তিন ঘণ্টায় একজন মানুষের মৃত্যু হয়। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালানো সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহব্বান জানায় সংস্থাটি। অক্সফাম জানায়, সিভিলিয়ান ইমপ্যাক্ট মনিটরিং প্রজেক্ট এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩৬ শিশুসহ অন্তত ৫৭৫ বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। সংস্থাটির মানবাধিকার ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয় মার্ক লোকক বলেন, ইয়েমেন ভয়াবহ দুর্যোগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন।মার্ক লোকক বলেন, ইয়েমেনের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমি ইয়েমেন সফরের সময় সানার বাইরে বাস করা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।