ক্লাসিক্যাল মিউজিক সিরিজের সঙ্গীতানুষ্ঠান টিআইসিতে সুরের মূর্ছনায় আত্মনিমগ্ন শ্রোতারা

যীশু সেন

40

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত শিক্ষাদানের জন্য উচ্চশ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জনসাধারণের মধ্যে সঙ্গীত বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সঙ্গীত বিষয়ে উপর উচ্চতর ডিগ্রি ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রসারে বর্তমানে ভারত সরকার সর্বোচ্চ সুযোগ প্রদান করে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের পাকিস্তান বিরোধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভারতীয় বাঙালি স¤প্রদায় ও ভারত সরকারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনন্য ও দুই দেশের সংস্কৃতি প্রায় একই। গত ১১ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঢাকা ভারতীয় হাই কমিশন ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম সঙ্গীত ভবনের যৌথ আয়োজনে ক্লাসিক্যাল মিউজিক সিরিজ সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাচিক শিল্পী সাদিয়া কবির এর সঞ্চালনায় মঞ্চে শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী প্রমা অবন্তী বিশ্বাস। কলাবতী রাগের ত্রিতালে “লাগি তোসে ন্যায়না পিহরবা তুঝ বিনা সুনা মোরা আঙ্গনা”, “পিয়া ঘর আও সুখ সাঙ্গ লাও দরশন দো জিয়া লাগে না”, প্রমা অবন্তীর সুরেলা কণ্ঠে সুরে মুখরিত হয়ে উঠে টিআইসি। হারমোনিয়ামে ছিলেন শুভ দাশ, তানপুরায় ছিলেন রিতু সাহা। শিল্পী মিঠুন চক্রবর্তী পরিবেশন করেন রাগ মালকোষ বিলম্বিত খেয়াল একতালে “যিনকে মন রাম বিরাজে”। মধ্যলয়ে খেয়াল ত্রিতালের “আজ মোরে ঘর আয়ে না বালমা”, ঠুমরী (আদ্ধা তাল) “পিয়া বিনে জিয়া তড়পায়”, রাগ মিশ্র পাহাড়ি। হারমোনিয়ামে ছিলেন সুকান্ত চৌধুরী, তানপুরায় ছিলেন দোলন চক্রবর্তী। দুই শিল্পীর সাথে তবলায় ছিলেন তবলা শিল্পী সুশান্ত কর চৌধুরী। শিল্পী মিঠুন চক্রবর্তীর পরিবেশনায় সুরের মায়াজালে শুদ্ধ সুরের মূর্ছনায় আত্মনিমগ্ন ছিলেন দর্শক-শ্রোতারা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের অ্যাটাচি মনোজ দত্ত পুরকায়স্থ। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন ঢাকা ভারতীয় হাই কমিশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর প্রদীপ কুমার। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্তা। সঙ্গীত পরিবেশনার শেষে শিল্পীদের হাতে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। শিল্পীদের পরিবেশনায় মিলনায়তনপূর্ণ দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে আন্দোলিত হয় এবং তবলার বোল ও শাস্ত্রীয় সুরে প্রায় তিন ঘন্টা মুখর ছিল পুরো মিলনায়তন।