কোরবানির আগে লবণের মজুদ পর্যাপ্ত : বিসিক

11

প্রতি বছর ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী কোরবানির পশু সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রায় এক লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়।
কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ অত্যাবশ্যক, আর এই মুহূর্তে এর মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
মঙ্গলবার বিসিকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, দেশে বর্তমানে ১১ লাখ ৫৭ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে।
যে মজুদ এখন রয়েছে, তা দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের পাশাপাশি আরও সাত থেকে আট মাসের চাহিদা পূরণ করা যাবে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী কোরবানির পশু সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রায় এক লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়।
বিসিক জানায়, চার মাস পর অর্থাৎ আগামী নভেম্বর থেকে লবণ উৎপাদনের নতুন মৌসুম শুরু হবে। ফলে দেশে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
বিশেষ প্রস্তুতি
এবারের ঈদকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের ৮টি লবণ জোনে ১৮৬টি নিবন্ধিত লবণ মিলে পুরোদমে উৎপাদন চলছে।
এর মধ্যে ঢাকায় ৪টি, নারায়ণগঞ্জে ৩৪টি, চাঁদপুরে ২টি, চট্টগ্রামে ৫৭টি, পটিয়ায় ৩৪টি, কক্সবাজারে ৩৫টি, খুলনায় ৮টি এবং ঝালকাঠিতে ১২টি মিল চালু রয়েছে। চালু লবণ মিলগুলোর মাসিক গড় উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন হলেও সবাজারের চাহিদা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন করে থাকে।
ঈদ ঘিরে সার্বিক লবণ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য বিসিক আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।
লবণ জোনগুলোতে অবস্থিত বিসিক কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয়ে পৃথক কমিটি গঠন করে তিন স্তরবিশিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিসিক।
এসব কমিটি মাঠ পর্যায়ে লবণের মজুদ, চলাচল ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্যাদি নিয়মিত সংগ্রহ করে লবণের সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ উপলক্ষে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। লবণ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে তথ্যের জন্য ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড)/ ০১৯১১-৮৩৮২০০ (সেল ফোন) নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিসিক জানায়, জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার মার্কেটিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলাভিত্তিক ডিলার ও পাইকারি লবণ বিক্রেতাদের মোবাইল নম্বরসহ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এ তালিকা ঈদের আগেই এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদসহ কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হবে। ফলে কারসাজি করে লবণের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছে বিসিক।