কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি চরম সংকটে মধ্যবিত্তরা

12

২৬ এপ্রিল নতুন ৪১৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জন। গত রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় আরো ৫ জনের মৃত্যুসহ দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ১২২ জন। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য এ পরিসংখ্যান সুখকর নয়। আক্রান্ত, মৃত্যু এবং সুস্থতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে খুব একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে করোনা আক্রান্তদের সুচিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবেলায় আমরা ঢাল-তলোয়ার হীন নিধিরাম সরকারই বটে। দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সংকট বহুমুখি। একদিকে ৭ কোটি দরিদ্র মানুষ, অন্যদিকে লকডাউন সংক্রান্ত সমস্যায় নাভিশ্বাস উঠছে দেশের অধিকাংশ মানুষের। দরিদ্ররা সরকারি বেসরকারী ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছেন, কিন্তু দরিদ্রদের ত্রাণ সামগ্রীর বিশাল একটি অংশ চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে গরীব সাধারণ মানুষ ও যথাযথ ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছে না। মাঝখানে একটি শ্রেণি সরকারি-বেসরকারী ত্রাণ আত্মসাৎ করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছে। এদেশে দুর্নীতি, অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা এবং চৌর্যবৃত্তির লাগাম কোন অবস্থাতেই টেনে রাখা যাচ্ছে না। কি করে যে দেশের বর্তমান সংকট মোকাবেলা করা যাবে তা বুঝে আসে না। ত্রান, ওএমএস কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, কাবিখা ইত্যাদি সরকারি কর্মসূচির আওতায় টাকা ও খাদ্য দ্রব্যের বিশাল একটি অংশ মধ্যসত্ব ভোগীদের হাতে যাওয়া বন্ধ হতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জনসমাগম বন্ধ এবং সামাজিক দূরত্ব তথা শারীরিক দূরত্বের ব্যাপারে দেশে সাধারণ মানুষ খুবই উদাসীন। এদিকে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়, তারাবিহ নামাজ আদায় ইত্যাদিতে সরকারি বাধ্যবাদকতার কথা বলা হয়েছে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কারো মায়ের জানাজায় প্রচুর জনসমাগম, আবার কারো বোনের জানাজায়, আবার কখনো ধর্মীয় কোনকোন আলেমের জানাজায় ব্যাপক লোকসমাগম রোধ করা যাচ্ছে না। করোনার কারণে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা অনেকটা বন্ধ। মার্কেট, দোকানপাট বন্ধ কিন্তু বড় বড় শিল্পপতিদের গার্মেন্টস ব্যবসা ঠিকই চলছে। সব মিলিয়ে দেশের করোনা সংক্রমণরোধ পরিস্থিতি সুখকর বলে মনে হয় না।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সংকটজনক দিন যাপন করছে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণী। নিম্নবিত্ত দরিদ্র মানুষেরা সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা পেলেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় একটি অংশই সরকারি বেসরকারী ত্রাণ কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা বললেও কার্যত মধ্যবিত্ত শ্রেণির সহায়তার কোন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের তালিকা করার কথা ও ঘোষণা করেছেন। আজ পর্যন্ত এদের কোন তালিকা হয়েছে কিনা আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়নি। তালিকা হলেও তাদের ত্রাণ বিতরণের কৌশল কি হবে তাও মধ্যবিত্তদের জানা নেই। মধ্যবিত্তরা ত্রাণের জন্য সরকারি-বেসরকারী ত্রাণ দাতাদের পেছনে ঘুর ঘর করার যোগ্য নয়। যে কারণে তাদের অবস্থা সংকটজন হলেও তারা তা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে পারছে না। এমতাবস্থায় সরকার ও বেসরকারী ত্রাণ বিতরণ সংস্থার মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। মধ্যবিত্তরা বাসা ভাড়া, খাবার কেনা, সেবা সংস্থার নানা বিল পরিশোধে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে কার্যত দেশ লকডাউন হয়ে আছে। মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা বড় ধরণের সংকট মোকাবেলা করছে। তাদের ব্যবসা এক প্রকার বন্ধ। সরকার এদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ শ্রেণির মানুষের মধ্যে মহা বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকর ও বেসরকারী সংস্থাকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিষয়টি আন্তরিক বিবেচনায় আনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।