কোচিং সেন্টারে তালা স্কুলেই পড়া শেষ করার দাবি

62

সরকারি নির্দেশনায় নগরীর কোচিং সেন্টারগুলোতে তালা ঝুলছে। যদিও গেইটে তালা ঝুলিয়ে রেখে বাইরে পর্যবেক্ষণ করছেন কোচিং সেন্টারের মালিকেরা। কোচিং বন্ধ রাখার নির্দেশনায় বিপাকেও পড়েছেন তারা। তাদের দাবি, কোচিং সেন্টারগুলোতে শুধু এসএসসি পরীক্ষার্থী নয়, চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে পড়েন। তাদেরও বন্ধ রয়েছে কোচিংয়ের ক্লাস। বাংলানিউজ
এর আগে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে থেকে দেশের সব কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানুসারে এসএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা মানতে হবে নগরীরসহ দেশের সব কোচিং সেন্টারগুলোকে। অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা রয়েছে।
কোচিংপাড়া খ্যাত নগরীর চকবাজার এলাকায় শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, ইনডেকস, প্রবাহ, সেঙ্গুইন প্লাস, সাইন্স পয়েন্ট, আর্টস পয়েন্ট, কমার্স পয়েন্ট, প্রাইম, উন্মেষ, রেটিনা, ফোকাস, উদ্ভাসসহ প্রায় সকল কোচিং সেন্টারগুলোর গেইটে তালা ঝুলানো।
কয়েকটি কোচিং সেন্টারের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কোচিংয়ের ক্লাস বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ক্লাস ও পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।’
সায়েন্স পয়েন্ট কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. কফিল জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কোচিং বন্ধ রেখেছি। তবে অন্য শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়ে গেলাম। তাদের ব্যাচ শুরু করেছি চলতি মাসেই। সবে সপ্তাহ দু’য়েক ক্লাস হয়েছে। এখন কোচিং বন্ধ রাখার খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকেরা কোচিংয়ের ক্লাস কখন শুরু হবে সেই বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করছে। আমরা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি, এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কয়েকদিন বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে কোচিংয়ের ক্লাস শুরু হবে।
মহসিন নামে এক অভিভাবক জানান, শুক্রবার বিকেলে আমার মেয়ের কোচিংয়ের ক্লাস ছিল। কিন্তু কোচিংয়ে এসে দেখছি গেইটে তালা। পরে কোচিংয়ের স্যারদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছি। তারা কোচিং কিছুদিন বন্ধ থাকবে বলেছে। সপ্তাহখানেক পরে কোচিংয়ের ক্লাস শুরু হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। দেখা যাক কি হয়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এ অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলে যদি ভালমতো ক্লাস হতো তাহলে তো কোচিংয়ে দিতাম না। বিজ্ঞানের ক্লাসে নাকি বাড়ির কাজ দিয়েই ক্লাস শেষ করে দেন স্যারেরা। সেই বাড়ির কাজের জন্যই তো মাস প্রতি দেড় হাজার টাকা বেতনে কোচিংয়ে ভর্তি করিয়েছি। স্কুলের ক্লাসের পড়া যদি ক্লাসে শেষ করা হতো তাহলে আমাদের আর কোচিংমুখী হতে হতো না।’