শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

কৈশোরের অদম্য শক্তিতে বাল্যবিবাহ রোধ সম্ভব

4

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কৈশোরের হাতে। আগামীতে তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রচিত হতে যাচ্ছে উন্নত বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশের ৭৮ শতাংশ তরুণ-কিশোর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তারা অনেকেই স্কুল থেকে ঝরে পড়া কৃষক ও মেহনতি মানুষের সন্তান। তাদের কারণে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশের একটি মানচিত্র ও লালসবুজের পতাকা। দেশের রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরগুলোতে ৪০ শতাংশ কৃষক-তরুণ চাকরি করছে বলে এদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশ্বের অর্থনীতিতে এদেশ ৩৩তম অবস্থানে রয়েছে। এরপরেও কোন কোন ক্ষেত্রে পারিবারিক অস্বচ্ছলতা, দারিদ্রতা, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে দেশে এখনো বাল্যবিবাহ হচ্ছে।
গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত বাল্যবিবাহ নিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি কল্পে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের আলোচনা সভায় প্রধান বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিসের আয়োজনে ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ নিরোধে জনসচেনতা বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের আলোচনা সভা, মাপেট শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ২ কোটি ভোটার নতুন ও তরুণ। তাদের উপর নির্ভর করছে সরকার কোন দিকে যাচ্ছে। আবার দেশে প্লে শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৪ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া। বিশে^র কোন কোন দেশে ৫ কোটি জনসংখ্যায় নেই। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেক ইংরেজি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছেন। এ বছরও দেশে ৩৫ কোটি ৪৩ লক্ষ নতুন বই শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এটা সরকারের বিরাট সাফল্য। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, নারী-পুরুষের ক্ষমতায়ন, হ্রাস পেয়েছে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার।
পরিবর্তিত জীবন সময়ের কিশোর-কিশোরীদের জন্য শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের আন্তরিকতায় তাদের মধ্যে পরিবর্তনের যে হাওয়া লেগেছে এটার বিচ্যুতি ঘটলে ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়তে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তীর (অতিরিক্ত সচিব) সভাপতিত্বে ও বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শ্রাবস্তী রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পাপেট শো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় হেড অব জোন মিজ মাধুরী ব্যনার্জী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি (উপ-সচিব), বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার, ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, জেলা শিমু বিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা, সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র চট্টগ্রাম প্রধান রনজিত কুমার শীল, ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র কমিউনিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অফিসার আম্বারিন খান, ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা ফ্লোরা জেসমিন দীপা, ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা ইয়াসমিন, কলকাকলী স্কুলের শিক্ষার্থী পাপিয়া বেনতে হাসান ও সেন্টপ্লাসিডস স্কুলের শিক্ষার্থী অরিন্দম রাজ চৌধুরী। আলোচনা সভার পূর্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে কৈশোরের শক্তিকে স্বাগত জানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
বাল্যবিবাহ নিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা শেষে এক মাপেট শো, পুষ্টি বিষয়ক তথ্যানুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ পুরস্কার ও পথশিশুদের প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ’র শিশুদের পরিবেশনায় দলীয় আবৃত্তি, নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয়। সবশেষে বাল্যবিবাহ বিষয়ে একটি মনোজ্ঞ কথিকার আয়োজন করা হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, স্কাউটস ও কিশোর-কিশোরীরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি