কেজিডিসিএল’র প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ

প্রি-পেইড মিটারের আওতায় নগরীর ৬০ হাজার গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক

37

নগরীতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। এ পর্যায়ে ৬০ হাজার মিটার স্থাপন করা হয়েছে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা সড়কের সাগরিকা টাওয়ার নামের একটি বাড়িতে দুটি গ্যাস সংযোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রমের সমাপ্তি টানেন কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহম্মদ মজুমদার।
ওকজিডিসিএল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধ এবং গ্রাহকের খরচ কমাতে জাইকা, বাংলাদেশ সরকার ও কেজিডিসিএলের অর্থায়নে আবাসিক গ্যাস সংযোগে প্রি-পেইড মিটার বসানোর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে প্রতি চুলা হিসেবে বিল না দিয়ে যত পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করবে সে হিসেবে বিল কার্ড রিচাজের মাধ্যমে পরিশোধ করছেন গ্রাহকরা।
এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে, এসব গ্রাহকের গ্যাসের খরচ যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে গ্যাসের অপচয়ও।
ঘাটফরহাদবেগ এলাকার একজন গ্রাহক জানান, তার দুই চুলা রয়েছে। আগে বিল দিতে হত ৮৫০ টাকা। প্রি-পেইড হওয়ার পর এ টাকায় দুই মাসেরও বেশি যায়।
এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, গ্রাহকরা গড়ে ৮৮ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন, এমনটা ধারণা করে প্রতি ঘনমিটার ৯ টাকা ১১ পয়সা হিসেবে প্রতিমাসে ডাবল বার্নারের জন্য ৮০০ টাকা বিল নেওয়া হয়। তবে এ ধারণাটি ভুল ছিল। বেশিরভাগ গ্রাহক প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। শতকরা ৫ শতাংশ গ্রাহক ৫০ ঘনমিটারের বেশি ব্যবহার করেন। এখন প্রি-পেইড মিটার চালু হওয়ায় গ্রাহকদের গ্যাসের খরচ কমে গেছে।
তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক ব্যবহারের মধ্যেই যেখানে অর্ধেক টাকা কমে যাচ্ছে সেখানে মিটার যুক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনে গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখা, কিংবা রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে চুলা বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে জন্ম নেবে এবং তখন আরো কম গ্যাস খরচ হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের ৫ লাখ ৯৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। শুরুর দিকে আগ্রহ কম থাকলেও প্রি-পেইড মিটার নিতে মানুষের এখন প্রচÐ আগ্রহ। ধাপে ধাপে সব গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার চিন্তা সরকারের আছে।