কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষক তরুনবাবু, কিন্তু কেন?

লিটন দাশ গুপ্ত

18

এলডিজি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তরুন কুমার বিশ্বাস। ‘তরুনবাবু’ নামে তরুন হলেও বয়সে কিন্তু তরুন নয়, চল্লিশউর্ধ্ব প্রৌঢ়। আবার নামের মাঝে ‘কুমার’ থাকলেও কুমার বা অবিবাহিত নয়, বরং বিবাহিত জীবনে দুই সন্তানের জনক। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকে তরুণবাবু সবার মাঝে আদরে যতেœ বেড়ে উঠেন।
তরুণবাবুর একটা স্বভাব, সবকিছুতে নতুনত্ব ও সৃষ্টিশীল কিছু করার চেষ্টা করা। মানুষের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ছাড়াও রয়েছে দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর। বিশ্বাস শব্দটি সম্পর্কে বলতে গেলে যা একেবারে নামের ‘বিশ্বাস’ টাইটেল’র সাথে যুক্তিযুক্ত ও সঙ্গতিপূর্ণ। শৈশবকালে সম্মানিত এই শিক্ষকের নাম ‘তরুণ কুমার বিশ্বাস’ কে রেখেছেন বা কে দিয়েছে জানা নেই, তবে তিন শব্দের এই নামের নামকরণ শতভাগ সার্থক হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। যা তাঁর দৈনন্দীন কার্যক্রমে বহিপ্রকাশ ঘটেছে, প্রমাণিত হয়েছে।
যাহোক, এইসব তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। এখানে উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন এবং বলা উচিতও নয়। তবে যেহেতু তিনি শিক্ষক, তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ না করলে কি হয়? তরুনবাবু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
বিজ্ঞানের ছাত্র ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এই মানুষটি স্বাভাবিকভাবে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ইত্যাদির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান। তবে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান হলেও বিদ্যালয়ে অবস্থা অন্যরকম! বিদ্যালয়ে তিনি কুসংস্কারকে খুবই লালন পালন ও ধারণ করেন, শিক্ষার্থীদের কুসংস্কার বিষয়ে উৎসাহিত করেন! কিন্তু কেন এরূপ শিক্ষকের এমন দ্বৈতনীতি? কেন বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এমন শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী কুসংস্কারমুক্ত শিক্ষা পাচ্ছেনা? তরুনবাবুর সেই লুকায়িত দ্বৈতনীতির কথায় আজকের লেখার আলোচ্য বিষয়।
চাকুরী জীবনে তরুনবাবু ইতোমধ্যে দুটি টাইমস্কেল পেয়েছেন। বুঝতেই পারছেন তাঁর চাকুরীর বয়স ১২ বছর উর্দ্ধে। তাঁর ১২ বছরের অধিককাল চাকুরী জীবনে, ৭ বছর করেছেন পূর্ববর্তী অন্য একটি বিদ্যালয়ে। সেই বিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন সংস্কারবাদী। আর সেই সময়ে অর্থাৎ প্রথম বিদ্যালয়ে তাঁর সংস্কারপন্থী অবস্থান বিষয়ক কথাবার্তা দিয়ে শুরু করলে বুঝা যাবে, এমন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক আগের বিদ্যালয়ে সংস্কারপক্ষে, আবার দ্বিতীয় বিদ্যালয়ের ব্যাপারে কেন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। কথা না বাড়িয়ে এবার শুরু করা যাক এই মাস্টারের, দুই বিদ্যালয়ে পরিবর্তিত মনোভাবের কারণ। তরুনবাবুর পূর্ববর্তী বিদ্যালয়টি ছিল কিছুটা পাহাড়ি অঞ্চলে, যদিও বিদ্যালয়ে চারিদিকে ধান ও সব্জির ক্ষেত। ঐ বিদ্যালয়ের ধান কাটার মৌসুম শেষে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও সাপের বাচ্চা বিদ্যালয়ের ভিতরে বাইরে ও আশেপাশে অবস্থান করত। তিনি বিদ্যালয়টিতে যোগদানের পর শুনেছেন প্রতি মৌসুমে ঐ সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই ধান কাটা মৌসুম শুরুতে ওঝা এনে ঝাড়ফুক ও ধুলোবালি পানিপড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের চারিদিকে ছিটিয়ে সাপের উপদ্রব বন্ধ করতে হয়। প্রতিবছরের এই কুসংস্কারমূলক কার্যক্রম দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল। কিন্তু তরুণবাবু স্বাভাবিকভাবে এইসব বিষয়ে নাখোঁজ। তিনি সেই বছর স্টাফ কাউন্সিলে সকল শিক্ষকদের বললেন, ‘এমন কুসংস্কার যদি আমরা লালনপালন করি, তাহলে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শতশত ছাত্রছাত্রী তা ধারণ করবে এবং কুসংস্কারচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, এতে করে আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষিত প্রজন্ম পাব ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞান মনস্ক জাতি থেকে বঞ্চিত হব, আর জাতি শিক্ষিত হয়েও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। তাই আমি কার্বলিক এসিডের ব্যবস্থা করব। কার্বলিক এসিড প্রতি শ্রেণিকক্ষে ও বিদ্যালয়ের আনাচে কানাচে দেয়ার ব্যবস্থা করব। আপনারা সবাই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বলবেন, ঐ সব কুসংস্কার বর্তমানের বিজ্ঞান যুগে চলেনা। ঐ জাতীয় ঝাড়ফুক বিশ্বাস করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।’ প্রধানশিক্ষকের যেই কথা সেই কাজ, তিনি নিজেই কার্বলিক এসিড এনে প্রত্যেক কক্ষে নিয়মমত দিয়ে দিলেন। একই সাথে নিজেই প্রত্যেক ক্লাসে গিয়ে ঐ সব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলে, মতঐক্য ও সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এর কয়েকদিন পর এলাকায় অভিভাবকদের মাঝে দেখা গেল তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা, একইসাথে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হল। প্রধানশিক্ষক তরুনবাবুকে প্রকাশ্যে ও গোপনে কড়া ভাষায় কথা বলতে লাগল। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে নেমে এল। যেসব ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসছেনা, তারা পথে ঘাটে খেলাধুলা ও ঘুরাঘুরি করতে লাগল। এখানে আরো একটি কথা বলা হয়নি, কুসংস্কারমুক্ত অভিযান শুরুর পূর্বে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছিল যদিও দুয়েকজন সদস্য বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু সভাপতিসহ অধিকাংশ সদস্য সর্বাত্বক সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্থ করেছিল। এছাড়া শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় কর্তা ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সকলে তাঁর এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছিল।
যাহোক, যে কথা বলছিলাম, যে সকল ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেনা তারা মাঠে ঘাটে ঘোরাঘোরি ও খেলাধুলা করতে লাগল। তাদের একজন ভ্যানচালক ‘রহমত্যা’র ছেলে ‘কুদ্দুছ্যা’ ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রোল ৩১। রোল উল্লেখ করছি এই জন্যে, ৩৩ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তার রোল ৩১ এটা জানানোর জন্যে। এই ছেলে একদিন দুপুর বেলা বিদ্যালয় থেকে খানিক দুরে রাস্তার ধারে মার্বেল খেলতে গেলে সাপেকাটে অর্থাৎ সাপে কামড় দেয়। সাথে সাথে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। কেউ বলছে ওঝা ডাকতে কেউ বলছে হাসপাতালে নিতে। শেষপর্যন্ত বেশীরভাগ লোকের পরামর্শে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝা ডেকে চিকিৎসা করা হল। ওঝা ক্ষত স্থানে কিছু অংশ কেটে ঝাড়ফুক করে পায়ের আক্রান্ত স্থানের উপরে বেঁধে না দিয়ে, কাঁটা স্থানের নিচে বেঁধে বাড়িতে পাঠিয়ে দিল। আর সুমন্ত্রের ফ্যু’র সাহায্যে পানির ছিটকে দিয়ে বাড়িতে ঘুমিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে চলে গেল। এই অবস্থায় বাড়ি নিয়ে এলে কুদ্দুছ্যা’র অবস্থা খারাপ হতে লাগল। শেষপর্যন্ত আবার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হল। হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসায় কুদ্দুছ্যার তেমন কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল এলাকায়। কারণ মাস্টার বাবু এই বছর বিদ্যালয়ে পানি পড়া না দেয়াতে এই গতি। পরের দিন সব মানুষ জড়ো হয়ে স্কুলে ছুটে এল। তবে এলোতো এল, খালি হাতে না। লাটিসোটা যার যেটা আছে তাই নিয়ে এল। এখানে কিন্তু ভাগ্য ভালো তরুনবাবু’র, কারণ সেইদিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না, উপজেলায় একটি সভায় ছিলেন। এরপরের দিন সবাই (অভিভাবক) প্রস্তুত, বিদ্যালয়ে এমন অজ্ঞানী অবোধ প্রধানশিক্ষককে ঢুকতে দিবে না! এইদিকে কর্মরত সুযোগসন্ধানী শিক্ষিকা কবিতা বেগম এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির জন্যে মাঝেমধ্যে আগুনে ঘি ছিটিয়ে দিতে লাগল।
বিদ্যালয়ের এইসব ঘটনা তরুনবাবু মিটিং এ থাকাতে জানতেননা। কিন্তু রাতে প্রধানশিক্ষক তরুন বাবুকে সহকারি শিক্ষিকা নুরুন্নাহার এসব বিষয় জানিয়ে দেয় এবং নুরুন্নাহার পরামর্শ দেয় এলাকার মানুষের পরিস্থিতি ভালো নয়, তাই কয়েকদিন তাঁকে ছুটিতে থাকতে। প্রধানশিক্ষক পিছিয়ে যাবার পাত্র নয়, তিনি পরের দিন বিদ্যালয়ে যথারীতি চলে আসার প্রস্তুতি নেয়। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ৫/৬ কিলোমিটার দুরে। ৮টায় ঘর থেকে বের হয়ে সাইকেল যোগে সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলে অপরিচিত উচ্ছৃঙ্খল কয়েকজন ছেলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগল, এবং বিদ্যালয়ে কেম্নে ঢুকবে বলে দৌড়াদৌড়ি করে মানুষ জনকে ডাকতে লাগল।
এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে তরুণ বিদ্যালয়ে না গিয়ে, সরাসরি উপজেলা শিক্ষা অফিসে চলে যায়। বিস্তারিত সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলে, তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিত ভাবে জানাতে বলে। তাঁর কথা মত লিখিত ভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাতে গেলে টিইও সাহেব ক্ষুব্ধ হয়ে যান। টিইও বলেন, পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যানেজ করতে না পারলে কে বলছে হেড মাস্টারগিরি করতে! তিনি ঐ আবেদন গ্রহন না করে, উল্টো বকাবকি করতে থাকে, সরাসরি থানায় গিয়ে জিডি করতে পরামর্শ প্রদান করেন, এবং প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে অবহিত করতে বলেন। তরুণবাবু টিইও সাহেবকে বলেন, ‘আপনি তো আগে এই বিষয়ে আমাকে উৎসাহ ও প্রশংসা করেছিলেন। আপনার উৎসাহ পেয়ে আমি অগ্রসর হয়েছি।’ টিইও সাহেব রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘রাখেন মিয়া আমার উৎসাহ আর আপনার প্রশংসার কথা, আমি কি স্কুলে থাকি না স্কুল চালায়? পোলাপাইন পড়ায়? এলাকার অবস্থা বুঝতে হবেনা! আপনাকে এইসব কাজে সরকার কি অতিরিক্ত ভাতা দিবে? সমস্যা হলে এখানে আসেন আমাকে সমস্যায় ফেলতে। গেলেন কেন এই সব কুকর্ম করতে।’
সভাপতি’র সাথে কথা বললে সভাপতি বলে, ‘এতসব সরকারি নিয়ম কানুন আমি কি বুঝি? নিজের গাড়ির ষ্টিয়ার কিভাবে ঘুড়াবেন আপনি নিজেই জানেন। এখানে আমারে জড়ায়েননা।’
এইদিকে নুরুন্নাহারের সাথে পরামর্শ করলে তিনি (নুরুন্নাহার) জানান, ‘আপনার ভালোর জন্যে বলছি স্যার, এই সব কিছু লাভ নেই। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, নারায়ণগঞ্জের পি আর সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত আপনার চেয়েও শক্ত ছিল। আপনি ভেবে দেখুন ঐ শিক্ষকের কি অবস্থা হয়েছিল। জলে থেকে কুমিরের সাথে লড়াই করতে নেই।
এইদিকে সাপে কাটা সেই ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র কুদ্দুস ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে কয়েকদিন পর স্কুলে ফিরল। তারপরেও স্কুলে চাপা উত্তেজনা রয়ে গেছে। এলাকার সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দীন মাতব্বর তরুনবাবুকে আল্টিমেটাম দিয়েছে আগামী একমাসের মধ্যে এই স্কুল থেকে চলে যাবার জন্যে, অন্যথায় ঠেলে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানায়। অবশ্যই এরই মধ্যে এলাকার কিছু অভিভাবক এসএমসি’র কয়েকজন সদস্যসহ ৭টি গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ এনে উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে প্রেরণ করে।
এতসবের মধ্যে শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে সেই স্কুল ত্যাগ করে, বর্তমানে এলডিজি সরকারি বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসতে হয়েছে তরুণবাবুকে। আর সেই থেকে নতুন বিদ্যালয়ে যত রকম কুসংস্কার প্রচলিত আছে সব লালন পালন করতে থাকেন। একই সাথে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অনাদর্শ প্রদর্শন করতে থাকেন এবং শেখাতে থাকেন। এই ঘটনা আপনাদের কেমন লাগল জানিনা, তবে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম এবং বুঝতে পারলাম, কেন তরুণবাবুরা উচ্চশিক্ষিত ও বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও বিদ্যালয়ের বিষয়ে কুসংস্কার বিশ্বাসী, পানি পড়া ধুলো পড়া দিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ না করে অবনত জীবনের দিকে ধাবিত করছেন।