কুতুবদিয়ায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া

108

ঘূর্ণিদুর্গত এলাকার দারিদ্রপীড়িত জনগোষ্ঠির স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী চালু করায় কুতুবদিয়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগে পৌঁছে গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাস হতে এ কর্মসূচী চালু হয়েছে বলে এনজিও ইপসার- উপজেলা কোঅর্ডিনেটর নুর মোহাম্মদ জানান।

জানা গেছে, ঘূর্ণিদুর্গত এলাকার দারিদ্রপীড়িত শিশুদের পুষ্টিমান খাদ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষে দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড় প্রোগ্রামের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কুতুবদিয়া উপজেলার ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টিমান খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। কুতুবদিয়া উপজেলায় ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ৭শ ৯০জন শিক্ষার্থীদের মাঝে গত সেপ্টেম্বর মাস হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিত প্রত্যেক শিশুকে দৈনিক এক প্যাকেট উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে।

এ কর্মসূচীর আওতায় গত ১২ অক্টোবর কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুজন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের হল রুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিশুকে পুষ্টিমান খাদ্য হিসেবে খাওয়ার জন্য দুই কেজি ওজনের সৌদি আরবের খেজুর বিতরণ করা হয়। কুতুবদিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওমর ফারুক বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর হতে কুতুবদিয়া উপজেলার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাদ্য বিস্কুটের প্যাকেট বিতরণ করায় বর্তমানে বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়াও এক মাসের মাথায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী শিশুকে দুই কেজি ওজনের খেজুর বিতরণ করা হয়েছে।

কৈয়ারবিল জিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাসমত জাহান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্টিমান খাদ্য বিতরণের ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি  বেড়ে গেছে। দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসরত পরিবারের শিশুদের পুষ্টির মান ধরে রাখার জন্য সরকারের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দ্রারিদ্রপীড়িত জনগোষ্ঠি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী।

তিনি আরো বলেন, কুতুবদিয়া দ্বীপের উপকূলবর্তী এলাকার জনবসতির ঘর-ভিটিতে প্রতিনিয়তই জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। বিগত ৬ বছর ধরে কুতুবদিয়া উপকূলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) ৭১ পোল্ডারের ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ  সম্পূর্ণ বিলীন থাকায় সাগরের জোয়ার-ভাটায় এ এলাকার জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকা চরম দারিদ্র সীমার নিচে নামিয়ে এনেছে। ঐ জনগোষ্ঠির স্কুল পড়–য়া শিশুরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল। দুর্গত এলাকার জন্য সরকার ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের পুষ্টিমান খাদ্য বিতরণ চালু করায় আবারো স্কুল পড়–য়া শিশুরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে শুরু করেছে।

এনজিও ইপসার কুতুবদিয়া উপজেলার কোঅর্ডিনেটর নুর মোহাম্মদ জানান, কুতুবদিয়া উপকূলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ পুষ্টিমান খাদ্য বিতরণ প্রোগ্রাম আগামী এক বছর চলবে বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেন।