ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাব

কুতুবদিয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি

11

ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র প্রভাবে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আমন ক্ষেত ও শীতকালীন সবজির প্রায় ৩শ’ হেক্টর জমি নষ্ট হয়ে গেছে। কুতুবদিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান ও ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চাষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে লবণাক্ত জোয়ারের পানিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে যায়। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর আমন ক্ষেত এবং ৩০ হেক্টর সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। আরো বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানিতে। দ্বীপের তিন হাজার কৃষক এখানে চাষাবাদের সাথে জড়িত। এতে প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ারা বেগম বলেন, কুতুবদিয়া উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ ২১ কিলোমিটার ভাঙা থাকায় ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩/৪ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে ফসলি জমি ও শীতকালীন শাকসবজির বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির শিকার হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, কুতুবদিয়া দ্বীপের মাটির উর্বরতার ফলে চলতি মৌসুমে আমন ফসল ভাল হয়েছে। আগাম শীতকালীন শাকসবজির বীজতলার চারাগুলোও ছিল বাড়ন্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭১ পোল্ডারের ২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় সাগরের পানি ঢুকে ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের আনিচের ডেইল এলাকার কৃষক আবদু ছালাম বলেন, চলতি মৌসুমে দুই হেক্টর আমন চাষ করেছিলাম। জমি আগাম কিনতে হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৪৮ হাজার টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক বাবদ ১৫ হাজার টাকা মিলে প্রতি হেক্টরে মোট ৬৩ হাজার টাকা খরচ পড়ে। চলতি মৌসুমে দুই হেক্টর আমন চাষে খরচ পড়েছে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টাকা। আমন ধান পাকার মৌসুমে ফসল লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ পরিশোধ করার উপায়ও নেই।
কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কুতুবদিয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের ২১ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ সংস্কার জরুরী।