ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব

কুতুবদিয়ায় গ্রাম প্লাবিত পানিবন্দী ৫শ পরিবার

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি

6

কুতুবদিয়া উপকূলে বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে ৪টি গ্রাম। এসব এলাকার ৫শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল ১১টায় দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কাইছার পাড়া, নয়াকাটা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব ও অমাবস্যার জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে উপক‚লের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। কাইছার পাড়া, নয়াকাটা এলাকায় ৪ গ্রামের ৫’শ ঘর প্লাবিত হয়েছে।
উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অবহেলার কারণে যথাসময়ে বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় এ এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ার পানি লোকালয়ে ঢুকে ৪ গ্রামের ৫’শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে থাকা ও খাওয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পানিবন্দি মানুষেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অফিসের শাখা কর্মকর্তা এলটন চাকমা জানান, বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে উত্তর ধুরুং কায়ছার পাড়া, নয়াকাটা এলাকায় ভেঙে পড়া অর্ধ কিলোমিটার বাঁধ বর্ষা মৌসুমের পূর্বে মেরামত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো মেরামত কাজ শেষ করতে পারেনি। চলতি অমাবস্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি ৩/৪ ফুট উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ঐ এলাকায় বাঁধ না থাকায় নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।
ভয়েস অফ কুতুবদিয়ার সম্পাদক এস.এম সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ধুরুং এলাকার মানুষকে বেড়িবাঁধের সমস্যা নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত ধুরুং এলাকা থেকে দুইশত পরিবার গৃহহারা হয়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে বেড়িবাঁধের পাশের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়।
কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া লোকদের মাঝে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে শুকনো খাদ্য বিতরণ করে।
কাইছার পাড়ার বাসিন্দা শামশুল আলম (৬৫) জানান, জোয়ারে ঘর ভেঙে যাওয়া পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন। বর্তমানে পাশ^বর্তী আত্নীয়ের বাড়িতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে কাইছার পাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে লোকালয় তলিয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে তো কথা নেই।